সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একটি চিঠি দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। তিনি মোটেও বিশৃঙ্খলার দায় নিজের ঘাড়ে নেননি।

রাজীব কুমার-অরূপ বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 16 December 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার যুবভারতীতে মেসির ইভেন্টে (Messi in Kolkata) যে চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, শেষমেশ তারই জেরে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একটি চিঠি দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। তিনি মোটেও বিশৃঙ্খলার দায় নিজের ঘাড়ে নেননি, তবে চিঠিতে জানিয়েছেন, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন।
রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যাপার স্যাপারে সাদায়-কালোয় আপাতভাবে যা দেখা যায়, সব সময় সেটাই শেষ ছবি হয় না। অনেক কিছু আড়ালে থেকে যায়। ফলে মঙ্গলবার দুপুরে অরূপের চিঠি ফাঁস হতেই (সম্ভবত কৌশলগত) তৃণমূলের ভিতরে ও বাইরে নেপথ্য কাহিনি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়ে যায়—কেন এই পদত্যাগ?
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির ইভেন্টে যে চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার জন্য আয়োজকদেরই প্রথমে দায়ী করেছিল সরকার। ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে মেসির বিমান থেকে নামিয়ে এনে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তৃণমূল ও সরকারের শীর্ষ নেতারা বুঝতে পারছেন, ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রুর তুলনায় অরূপ বিশ্বাসের উপর মানুষের রাগ বেশি।
বিশেষ করে সেদিনের ইভেন্টে অরূপের যে সব ছবি ভাইরাল হয়েছে, তাতে অনেকের কাছে স্পষ্ট যে ছবি তোলার জন্য হামলে না পড়লে সেদিনের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু হতে পারত। এমনিতে দলের মধ্যে অনেকেই অরূপ বিশ্বাসকে ‘ছবি বিশ্বাস’ বলে কটাক্ষ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অনুষ্ঠানে অরূপ মঞ্চে থাকলে তাঁকে ফ্রেম থেকে বাদ দেওয়া কঠিন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক অনুষ্ঠানেও অরূপের এ ধরনের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতই।
বস্তুত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত সোশাল মিডিয়ায় (Social Media) সবরকম সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার কথায়, মানুষের হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ে মেসির ইভেন্ট দেখে। মেসিকে সেখানে মানুষ শুধু চোখ ভরে দেখেননি, উপভোগ করেছেন রীতিমতো। আর সেই সব দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা চলে এসেছে সল্টলেক স্টেডিয়ামের। শনিবারের ঘটনা নিয়ে জাতীয় স্তরে তো বটেই, আন্তর্জাতিক স্তরেও মুখ পুড়েছে কলকাতা তথা বাংলার।
কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, যুবভারতীতে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক সরকার বা তৃণমূল ছিল না। কিন্তু অরূপ বিশ্বাসের কারণেই গোটা দায় এখন এসে পড়েছে সরকারের ঘাড়ে। তাই দেরিতে হলেও ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে অরূপকে। যাতে মানুষের অসন্তোষ কিছুটা প্রশমিত হয়।
দলের এক রাজ্য নেতার কথায়, অরূপ নিজে থেকে ইস্তফার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে মনে হয় না। তৃণমূলে মমতা-অভিষেক বাদ দিয়ে বাকি কারও ত্যাগে ভরসা নেই। সবাই আরও বেশি চায়। তাই সম্ভবত কালীঘাটের নির্দেশের এই ইস্তফা। সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সরকারের এক নির্দেশে। যুবভারতীর ঘটনা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে শোকজ করেছে কমিটি। অরূপের ইস্তফা আর রাজীবকে শোকজ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একই সূত্রে বাঁধা।
কারণ, সেদিন সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসি পৌঁছনোর পর শতদ্রুকে বার বার মাইকে ঘোষণা করে পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, পুলিশকে অনুরোধ করছি মাঠ থেকে অবাঞ্ছিত লোকেদের বের করে দিন। কিন্তু তার পরেও পুলিশ তা শোনেনি। তা ছাড়া এ ধরনের ঘটনায় আয়োজকরা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেই এগোয়। আয়োজকদের খামতি থাকলে বরং পুলিশ প্রশ্ন তোলে। তাই অনেকের মতে, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার জন্য পুলিশও দায় এড়াতে পারে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নেতিবাচক পরিস্থিতিকে ঘোরানোর জন্য এ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক। আগামী দিনে এ ধরনের কোনও ঘটনায় পাল্টা পদত্যাগের দাবি তোলার হাতিয়ার থাকল তাঁর ঝুলিতে।