মেসির সফরে রাজনীতিক, শিল্পপতি, সেলিব্রিটিদের ভিড়, ছবি তোলার হুড়োহুড়ি—সব মিলিয়ে যে প্রশ্নটা অভিনব তুলেছেন, তা যথেষ্ট ন্যায্য বলেই মত অনেকের।

অভিনব বিন্দ্রা ও লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 15 December 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিওনেল মেসির (Lionel Messi) ভারত সফর ঘিরে উন্মাদনা আকাশছোঁয়া। কলকাতা থেকে মুম্বই, দিল্লি—গ্যালারি, রাস্তা, সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র আর্জেন্তিনীয় মহাতারকার জয়ধ্বনি। কিন্তু এই আলো-ঝলমলে আবহের মাঝেই এবার ভিন্ন সুরে কথা বললেন অভিনব বিন্দ্রা (Abhinav Bindra)। প্রকাশ্যে জানালেন, এই সফরের ধরন (Lionel Messi India Tour) তাঁকে ‘অস্বস্তিতে’ ফেলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে ভারতের অলিম্পিক সোনাজয়ী শুটার স্পষ্ট করে লিখেছেন, মেসির (GOAT Tour) মতো কিংবদন্তির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু গোটা আয়োজন (Lionel Messi in Kolkata) যেভাবে এগিয়েছে, তাতে প্রশ্ন উঠবে—আমরা আদৌ কী অর্জন করতে চেয়েছি? কী পেয়েছি?
অভিনব লেখেন, ‘লিওনেল মেসি এমন একজন বিরল ক্রীড়াবিদ, যাঁর গল্প খেলাধুলোর গণ্ডি ছাপিয়ে যায়। শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করা এক শিশুর বিশ্ব–সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠা—এই যাত্রা সারা বিশ্বের কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি তাঁর অধ্যবসায়, বিনয় আর শ্রেষ্ঠত্বের আপসহীন মানসিকতার প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাবান!’
এরপরেই আসে অস্বস্তির জায়গা। অভিনবর কথায়, ‘ভারতে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের কিছু অংশ বিশৃঙ্খল মনে হয়েছে। সেটা আমাকে থামতে বাধ্য করেছে—বিচার করার জন্য নয়, বরং সত্যিকারের উদ্বেগ থেকে ভাবতে বাধ্য করেছে, আমরা আসলে কী করতে চেয়েছি?’
Lionel Messi is one of those rare athletes whose story transcends sport. His journey from a child fighting physical odds to a footballer who redefined excellence has moved millions across the world. As someone who has lived the life of an athlete, I hold profound respect and…
— Abhinav A. Bindra OLY (@Abhinav_Bindra) December 15, 2025
প্রাক্তন শুটার পরিষ্কার করে জানান, বাণিজ্যিক বাস্তবতা তিনি বোঝেন। কিন্তু বেশ কিছু গলদ (Lionel Messi India Tour) নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বলেন, ‘খেলাধুলোর অর্থনীতি আমি বুঝি। গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং, আইকনদের আকর্ষণ—সবটাই বাস্তব। মেসির প্রতি আমার কোনও অভিযোগ নেই। তিনি তাঁর প্রাপ্য সবটাই অর্জন করেছেন। মহান ক্রীড়াবিদদের প্রতি শ্রদ্ধা স্বাভাবিক, এমনকি সুন্দরও।’
এখানেই থামেননি ভারতের একমাত্র ব্যক্তিগত অলিম্পিক সোনাজয়ী তারকা। যোগ করেন, ‘তবে শ্রদ্ধা মানেই আত্মসমালোচনার দরজা খোলা থাকা। সমাজ হিসেবে আমরা কি সত্যিই ক্রীড়াসংস্কৃতি গড়ে তুলছি, নাকি দূর থেকে কেবল ব্যক্তিবিশেষকে উদযাপন করছি?’
সবচেয়ে তীব্র মন্তব্যটা আসে অর্থব্যয়ের প্রসঙ্গে। অভিনবর কথায়, ‘কয়েক মুহূর্তের জন্য কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ক্ষণিকের দেখা পাওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হল। হ্যাঁ, এটা মানুষের নিজের উপার্জিত টাকা। তাঁরা যেভাবে খুশি খরচ করতেই পারেন। তবু মন থেকে একটা চাপা দুঃখ যায় না—ভাবতে বাধ্য হই, এই অর্থ আর উদ্যমের সামান্য অংশও দেশের ক্রীড়ার ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হলে কী কী সম্ভব হত? খেলার মাঠ—যেখানে শিশুরা অবাধে দৌড়াতে পারে। প্রশিক্ষক—যাঁরা তরুণ প্রতিভাদের পথ দেখাতে পারেন। এই জায়গাগুলোয় যদি বিনিয়োগ হত?’
মেসির সফরে রাজনীতিক, শিল্পপতি, সেলিব্রিটিদের ভিড়, ছবি তোলার হুড়োহুড়ি—সব মিলিয়ে যে প্রশ্নটা অভিনব তুলেছেন, তা যথেষ্ট ন্যায্য বলেই মত অনেকের। তাঁর আপত্তি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বরং, প্রশ্নটা আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে। ঝলমলে মুহূর্ত, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া–সংস্কৃতি—ভারতের জন্য কোনটা বেশি জরুরি? এই প্রশ্নটাই মেসি–উন্মাদনার আবহে আলাদা করে চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।