আক্রান্তদের রাজগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই রোগের বাহক কে, তা নিশ্চিত হতে গবাদি পশুর পাশাপাশি ইঁদুর ধরে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

শেষ আপডেট: 19 August 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ইঁদুর জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ায় কপালে ভাঁজ স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) নতুন করে আরও ৯ জনের দেহে ইঁদুর জ্বরের সংক্রমণ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০ পার হয়েছে।
রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকাটা গ্রামপঞ্চায়েতের চেকরমারি গ্রাম সহ মোট ৮ টি গ্রামে লেপ্টোস্পাইরা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগে ১৪৪ জন আক্রান্ত ছিল। এবার নতুন করে আরও ৯ জন আক্রান্ত হওয়ায় এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৩ জন। আক্রান্তদের রাজগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই রোগের বাহক কে, তা নিশ্চিত হতে গবাদি পশুর পাশাপাশি ইঁদুর ধরে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
তবে সেই ভাবনা ধাক্কা খেল একেবারে গোড়াতেই। ইঁদুর তাদের আওতায় পড়ে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতর (Department of Animal Resources Development) । তাহলে এই কাজটা করবে কে? জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার অসীম হালদার বলেন, "ইতিমধ্যে আমরা গ্রাম থেকে ব্লাড স্যাম্পল সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠাচ্ছি। আবার কিছু লেপ্টোস্পাইরা আক্রান্তের হদিস পাওয়ায় আমরা প্রাণিসম্পদ দফতরকে গবাদি পশুর মল ও মুত্র সংগ্রহ করে টেস্ট করতে পাঠাতে বলেছি। সঙ্গে ইঁদুর ধরে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে প্রাণিসম্পদ দফতরকে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা জানিয়েছে ইঁদুর তাদের আওতায় পড়ে না। বন দফতরের আওতায় পড়ে। বৈঠকে এই সমস্যা জানার পর এবার ইঁদুর ধরার জন্য বনদফতরকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।" তবে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ইঁদুর ধরা বন দফতরের কাজ নয়। বন দফতর বাঘ-হাতি ধরে।"
গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিল চেকরমারি গ্রামে থাকা পোল্ট্রি ফার্ম থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। সুনিশ্চিত হতে ফার্ম থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে বেলগাছিয়া ল্যাবরেটরিতে পাঠায় প্রাণিসম্পদ দফতর। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় কপালে ভাঁজ পড়ে স্বাস্থ্য দফতরের। ওই পোল্ট্রি ফার্মটি বন্ধের দাবিতে জোরদার আন্দোলন চলছে গ্রামে।