দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেনারেল বিপিন রাওয়াতের জায়গায় কে হবেন পরবর্তী চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ ( সিডিএস)?
সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তার কারণ দুটি। এক, পদটির গুরুত্ব। দুই, বিপিন পদটির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা দিয়ে। স্বভাবতই গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি বেশি দিন ফাঁকা রাখা যাবে না।
কিন্তু বিপিনের উত্তরসূরী বাছাই করা সহজ কাজ নয় বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তিন বাহিনীর মধ্য থেকে কাউকে বাছতে হলে বর্তমান সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে পরবর্তী সিডিএস হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ আর্মির প্রধান নেভি এবং এয়ারফোর্স প্রধানদের তুলনায় সিনিয়রিটিতে প্রায় দু'বছর এগিয়ে। আবার নারাভানের আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চাকরি আছে।
সিডিএস পদ তৈরির আগে তিন বাহিনীর প্রধানের একজনকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করা হত। এক্ষেত্রেও কি সিনিয়র অফিসারকে সিডিএস করা হবে?
লক্ষ্যনীয় হল, সিডিএস পদের জন্য এমন নির্দিষ্ট কোনও শর্ত বেঁধে দেওয়া নেই। ফলে সরকার চাইলে চার তারা বিশিষ্ট যে কোনও পদস্থ অফিসারকেই সিডিএস পদে বসাতে পারেন। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কোন অফিসারকেও এই পদে বসাতে কোনও বাধা নেই। কারণ এই পদটির জন্য মূল বিচার্য অফিসারের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে সিডিএস পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে কার্গিল যুদ্ধের ঠিক পরে। সেই সময় যুদ্ধে সেনার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে অটল বিহারি বাজপেয়ির সরকার কমিটি করেছিল। কার্গিল যুদ্ধ ভারতীয় সেনা সসম্মানে জয়লাভ করলেও দেখা যায় তিন বাহিনী অর্থাৎ আর্মি, নেভি এবং এয়ার ফোর্সের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তখনই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি সরকারকে বলেছিল চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সেনা সর্বাধিনায়কের পদ সৃষ্টি করার জন্য।
কিন্তু বাজপেয়ী সরকার তারপরে আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ওই সুপারিশ কার্যকর করেনি। পরে পরপর দুটি ইউপিএ সরকারও ১০ বছর ধরে ওই প্রস্তাব ফেলে রাখে। এমনকী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম সরকারও উচ্চবাচ্য করেননি। বরং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে আর্মি প্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার মুখে স্বয়ং বিপিন রাওয়াত এই ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এই ব্যাপারে সহমত হন। তারপর বিপিন রাওয়াতকেই দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক পদে বসানো হয়।
তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা ছাড়াও সেনা সর্বাধিনায়কের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামরিক সচিবের দায়িত্ব সামলাতে হয়।। আবার তিনিই হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মুখই উপদেষ্টা। এছাড়া তিন বাহিনীর উচ্চ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্মি প্রধানের পদ থেকে বিপিন রাওয়াত সিডিএস হওয়ার পর এমএম নারাভানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। বিপিন রাওয়াতের আগে আর্মি চিফ ছিলেন জেনারেল দলবীর সিং সোহাগ। এছাড়া বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান আরকে এস ভাদরিয়ার নাম এমএম নারভানের পাশাপাশি আলোচনায় আছে। ফলে, দেশের দ্বিতীয় সেনা সর্বাধিনায়ক নির্বাচন মোটেই সহজ কাজ নয় সরকারের কাছে।