অসমে পাঁচ বাঙালি খুন: আলফার কাঁধে বন্দুক রেখে ট্রিগার টিপল অন্য কেউ?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হত্যালীলার পর কেটে গিয়েছে গোটা একটা দিন। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে তিনসুকিয়ার ঢোলা খেরবাড়ির পাঁচ বাঙালির। শনিবার সকাল থেকে একাধিক সংগঠনের ডাকে বনধ চলছে অসমে। বিভিন্ন জায়গায় পিকেটিং, অবরোধে এ দিনও থমথমে অসম। এর মধ্যেই মৃত্যুর ম
শেষ আপডেট: 3 November 2018 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হত্যালীলার পর কেটে গিয়েছে গোটা একটা দিন। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে তিনসুকিয়ার ঢোলা খেরবাড়ির পাঁচ বাঙালির। শনিবার সকাল থেকে একাধিক সংগঠনের ডাকে বনধ চলছে অসমে। বিভিন্ন জায়গায় পিকেটিং, অবরোধে এ দিনও থমথমে অসম। এর মধ্যেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা তিনসুকিয়ার তরুণ সহদেব নমঃশূদ্রের বক্তব্য থেকে অনেকেই গোটা ঘটনায় ধোঁয়াশা দেখছেন।
সংবাদমাধ্যমে সহদেব দাবি করেছিলেন, চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ঘাতকরা। মোট ছ’জনকে লাগোয়া ভূপেন হাজারিকা সেতুর নীচে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় পাঁচ জনকে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সহদেব বলেছেন, “ভাগ্যিস আমি কাঁটা ঝোপের জঙ্গলে পড়ে গিয়েছিলাম। ওরা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেল।” কিন্তু এই হামলার পিছনে কারা? সত্যিই কি আলফা? নাকি অন্য কেউ ? নাকি আলফার কাঁধে বন্দুক রেখে ট্রিগার টিপল অন্য কোনও শক্তি?
সহদেবের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ খানিকক্ষণ পর তাঁর হুঁশ ফেরে। তখন তিনি দেখতে পান কয়েক ফুট দূরেই পড়ে রয়েছে পাঁচ গ্রামবাসীর দেহ। যাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেই চা খাচ্ছিলেন। এরপর গ্রামবাসীদের খবর দিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর একজনের দেহে প্রাণ ছিল বলেও দাবি করেছেন সহদেব। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। আর পুলিশ সম্পর্কে যে অভিযোগ করেছেন সহদেব এবং গ্রামবাসীরা তাতেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। গ্রামবাসীদের দাবি, ঘটনা ঘটার পর পরই খবর দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল স্থানীয় থানায়। কিন্তু কোনও পুলিশ আধিকারিকের ফোন ছিল বন্ধ, তো কেউ নাকি একাধিক বার রিং হয়ে যাওয়ার পরও ফোন তোলেননি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় সওয়া এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল পুলিশ। সেনাবাহিনী পৌঁছেছিল আরও খানিকটা পরে।
আরও পড়ুন- অপারেশন রোজভ্যালি: কলকাতা ও জেলার পাঁচটি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশিতে ইডি-র ২৫ অফিসার
প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় স্বরষ্ট্রমন্ত্রকের আগাম সতর্কবার্তা থাকলেও এমন একটা গণহত্যা হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ কর্তাদের ফোন সুইচ অফ থাকল কী করে? নাম উঠেছে পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন আলফা (স্বাধীন) গোষ্ঠীর। দু’জনকে জেল হেফাজতে পাঠানোর পর শনিবার আরও একজন আলফা নেতাকে জেরা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোলকে সূত্র করেই পুলিশ দাবি করেছে এই কাজ আলফারই। যদিও আলফা দায় অস্বীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ খানেক আগেই আলফা নেতারা বাঙালি নিধনের হুমকি দিয়েছিলেন। কৌতূহলের বিষয়, প্রকাশ্যে ওই মন্তব্য করার পরও কেন ওই উগ্রপন্থী নেতাকে গ্রেফতার করেনি সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকারের পুলিশ? বিরোধীদের অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কি তাহলে এইরকম একটা গণহত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল?
জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের সময় থেকেই ফুটছে অসম। একের পর এক বাঙালি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সেই তালিকায় যেমন আছেন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টারমশাই তেমন রয়েছেন সাইকেল মেকানিকও। এর উপর যুক্ত হয়েছে ডি-ভোটার (ডাউটফুল ভোটার) তালিকায় নাম। প্রশাসনিক ত্রুটি এমন জায়গায় গিয়েছে বলে অসমের অনেকের দাবি যে, যাঁর নাম হয়তো এনআরসি-তে রয়েছে তাঁদের নাম আবার ডি-ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা অসম জুড়ে বাঙালি বিদ্বেষ এবং বাঙালিদের আতঙ্ক, এই জোড়া ইস্যু নিয়ে আগুন জ্বলছিলই ধিকিধিকি। তিনসুকিয়ার ঘটনার পর উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের সরকারের ভূমিকা দেখে অনেকেই বলছেন, দিল্লির বাতাসে চলতে থাকা ধোঁয়াশাকেও হার মানাচ্ছে অসম!
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন