আগামীকাল ২৩ নভেম্বর, সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সেতুর উপরে যান চলাচল। কাজ চলার জন্য সেতুর দুই দিক থেকেই কোনও গাড়ি উঠতে পারবে না। ফলে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের হাওড়া ব্রিজ অথবা অন্য দীর্ঘ ঘুরপথ বেছে নিতে হবে। অনেকেরই বক্তব্য, “সবাই যে সরকারি চাকরি করেন, তেমনটা নয়। অনেককেই রবিবারেও কাজের জন্য বের হতে হয়।

শেষ আপডেট: 22 November 2025 19:32
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: আর কতদিন চলবে ভোগান্তি? রবিবার আসতেই প্রশ্ন ঘুরছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু (2nd Hooghly Bridge) ব্যবহারকারীদের মনে। এই সেতু সংস্কারের (Bridge Repair) কাজ চলছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। ২০২৩ সালের শেষে শুরু হয়েছিল প্রাথমিক কাজ। ২০২৪ সালের শুরু থেকে তা গতি পায়। প্রথমে বলা হয়েছিল ৬ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। কিন্তু বছর ঘুরলেও শম্বুক গতিতে কাজ চলছে।
রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা হুগলি রিভার ব্রিজ (Hooghly Bridge) কমিশন রবিবার—ছুটির দিনকে কাজের জন্য বেছে নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আগামীকাল ২৩ নভেম্বর, সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সেতুর উপরে যান চলাচল। কাজ চলার জন্য সেতুর দুই দিক থেকেই কোনও গাড়ি উঠতে পারবে না। ফলে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের হাওড়া ব্রিজ অথবা অন্য দীর্ঘ ঘুরপথ বেছে নিতে হবে। অনেকেরই বক্তব্য, “সবাই যে সরকারি চাকরি করেন, তেমনটা নয়। অনেককেই রবিবারেও কাজের জন্য বের হতে হয়।
কৃষ্ণেন্দু আদক, শুকদেব পাত্ররা বলেন, “সবাই যে সরকারি চাকরি করেন, তা নয়, এছাড়া রবিবারেও বহু মানুষকে কাজের জন্য বের হতে হয়। অনেকবার কাজে বেরিয়ে সময়মতো পৌঁছতে পারিনি। পুরো দিনটাই নষ্ট হয়েছে।” যাত্রীদের দাবি, কাজ যতই প্রয়োজন হোক, দুটি লেন পুরোপুরি বন্ধ না করে অন্তত একটি লেন খোলা রাখলে সুবিধা হত। রবিবারের ব্যস্ততা কম ভাবা হলেও বাস্তবে বহু মানুষ কর্মস্থলে যান। এছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত কাজ, বাজার, চিকিৎসার প্রয়োজন।
অন্যদিকে গাড়িচালকদের বক্তব্য, ঘুরপথে যেতে বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বোঝেন না, কতটা ঘুরে তবেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন তাঁরা। গাড়িচালক মহম্মদ শাওয়ানের কথায়, "প্রতি রবিবার ব্রিজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন অনেকটা ঘুরপথে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হয়। কিন্তু বেশি ভাড়া চাইলেই বেঁকে বসে তাঁরা। বাড়তি টাকা কিছুতেই দেবে না। তাহলে আমরা কী করি!"
১৯৭২ সালে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর শিলান্যাস করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। (Second Hooghly Bridge)
১৯৭৯ সাল নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তারপর ৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর উদ্বোধন হয়। তবে ২০১৩ সালে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর মাহাত্ম্য বাড়ে।
এই সেতুর ডিজাইন করেছিল জার্মান কারিগরী সংস্থা শ্লায়েশ বার্জারম্যান পার্টনার (Schlaich Bergermann Partner)। সে কারণেই জার্মান বিশেষজ্ঞদের আনা হয় সেতুর মেরামতির জন্য। মোট ১২১ টি কেবলের ফ্যান অ্যারেঞ্জমেন্টের উপর সেতুটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেবলের অবস্থা ভাল নয় বলে জানিয়েছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে মেরামতির জন্য খরচ ধরা হয়েছিল ৫৫ কোটি টাকা।