প্রশাসনের অবশ্য বক্তব্য, “সেতুর সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই মেরামতি অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে সেতু খুলে দেওয়া হবে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার যান চলাচলে ফের বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে রবিবার। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কারণে আগামী ২৩ নভেম্বর, রবিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকবে কলকাতা–হাওড়া সংযোগকারী ব্যস্ততম বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতুর যান চলাচল (Vidyasagar Setu closed again , Sunday)।
ইতিমধ্যেই হাওড়া পুলিশ ও হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন (এইচআরবিসি) নির্দেশিকা জারি করেছে, যাতে ওই সময় যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের নামে বারবার এভাবে ব্যস্ততম সেতু বন্ধ রাখা নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তাঁদের প্রশ্ন, রক্ষণাবেক্ষণের নামে চলতে থাকা এই দুর্ভোগের শেষ কবে?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রবিবারের সকাল মানেই যানজট, ঘোরানো পথ এবং সর্বোপরি নিত্যযাত্রীদের বাড়তি দুর্ভোগ। কারণ প্রতিটি রবিবারই চলছে সেতুর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ। হোল্ডিং ডাউন কেবল, বিয়ারিং এবং সেতুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক অংশের মেরামতি জরুরি হয়ে পড়ায় একাধিক পর্যায়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে যান চলাচল। প্রশাসনের দাবি, এই কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। এখন দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে গিয়েই প্রতি সপ্তাহের শেষ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এইচআরবিসি সূত্রের খবর, বিগত বছরগুলিতে সেতুর ভারবাহক কাঠামোতে চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী এবং ভারী যানবাহনের চলাচলে বেশ কয়েকটি যান্ত্রিক অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। গত ১৬ নভেম্বরও ভোর ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিল সেতু। সেই অভিজ্ঞতাই বলছে, হঠাৎ সেতু বন্ধের খবর লাগামছাড়া জট তৈরি করে গোটা শহরজুড়ে। তাই এবারের নির্দেশিকায় আগেভাগেই প্রশাসন যাত্রীদের সতর্ক করছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। নিত্যযাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, “রবিবারই একমাত্র ছুটির দিন। এতদিন ধরে একই সময়ে সেতু বন্ধ থাকায় পরিকল্পনা করতেই সমস্যা হচ্ছে। কখনও চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কখনও আবার গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কাজ—সবই বিঘ্নিত হচ্ছে।”
প্রশাসনের অবশ্য বক্তব্য, “সেতুর সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই মেরামতি অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে সেতু খুলে দেওয়া হবে।”
এদিকে বিকল্প পথ হিসেবে হাওড়া ব্রিজ ব্যবহার করা যাবে। তবে তাতেও ভিড় আরও বাড়বে বলেই অনুমান। গত কয়েক সপ্তাহে হাওড়া ব্রিজে রবিবারের সকাল থেকেই দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রুট—এক্সপ্রেসওয়ে, দামোদর সেতু, মল্লিকফতেপুর রুটেও চাপ বাড়বে।
পরিবহন দফতর জানিয়েছে, বাড়তি ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ওই রুটে না যেতে।
শহরের অন্যতম প্রধান সেতু বিদ্যাসাগর ব্রিজের এই দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ভবিষ্যতের নিরাপদ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সাধারণ মানুষের জন্য রবিবারের এই নিয়মিত বিঘ্ন ক্রমেই বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। তাঁদের একটাই আর্জি—কাজ দ্রুত শেষ হোক, স্বস্তিতে ফিরুক শহরের স্বাভাবিক গতি।