ONGC-র হিসেব অনুযায়ী, আশোকনগরের অয়েল ফিল্ড থেকে দিনে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অশোকনগরের তেল-ভাণ্ডার।
শেষ আপডেট: 15 December 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর (Ashoknagar Oil field) থেকে প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস তোলার ব্যাপারে বড় আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)। সোমবার রাজ্যসভায় এই বিষয়টি তোলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর সোজাসুজি প্রশ্ন ছিল, অশোকনগর থেকে তেল তুলতে এত দেরি হচ্ছে কেন? তারই জবাবে হরদীপ পুরী জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সঙ্গে এ মাসের ১০ ও ১২ তারিখ কেন্দ্রের চিঠি আদানপ্রদান হয়েছে। অশোকনগরে যে পরিমাণ তেল রয়েছে তার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজ্য সরকার পাবে ৪৫০০ টাকা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বলা যাবে যে, কবে থেকে তেল তোলা যাবে।
এদিন সংসদে প্রেটোলিয়াম মন্ত্রী বলেন, তেল তোলা তথা অয়েল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (Oil exploration & production) সহজ কাজ নয়। ওএনজিসি (ONGC) এরই মধ্যে অশোকনগরে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সেখানে ২৪ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এর ৩০ শতাংশও যদি রিকভার করা যায়, তাহলে তার মূল্য দাঁড়াবে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগের উপর ফেরত বিপুল। মানে কষ্টেসৃষ্টে একবার তেল তোলা শুরু করে দিতে পারলে আনন্দই আনন্দ।
অশোকনগরের অয়েল ফিল্ড থেকে তেল তোলার ব্যাপারে ২০০৮ সালে প্রোডাকশন এগ্রিমেন্ট হয়েছিল। তার দশ বছর পর ২০১৮ সালে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং লিজ চুক্তি হয়। এ বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি অশোকনগরে ONGC-র বৃহৎ তেল খনন প্রকল্পে ছাড়পত্র দেয় রাজ্য সরকার। কেন্দ্র আগেই আশোকনগরের জন্য মাইনিং লিজে অনুমোদন দিয়েছিল। এই লিজ নতুন অনুসন্ধান লাইসেন্স নীতি (NELP)-র আওতায় পড়বে।
এদিন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কাছে শমীক জানতে চান, রাজ্য সরকার কি ইচ্ছা করে দেরি করছে? কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হল, হরদীপ সেই বিতর্ক ও চাপানউতোরে ঢুকতে চাননি। বরং জানিয়েছেন, এ মাসে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের ‘এক্সচেঞ্জ অফ লেটার’ হয়েছে। অর্থাৎ কাজ এগোচ্ছে।
লিজের জন্য রাজ্য সরকার স্ট্যাম্প ডিউটি পাবে। লিজের মেয়াদ ৩০ বছর, সুতরাং এক সঙ্গে ৩০ বছরের জন্যই স্ট্যাম্প ডিউটি পাবে রাজ্য। স্ট্যাম্প ডিউটি কত হবে তা রয়্যালটির উপর নির্ভর করবে। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বলা যাবে যে কবে থেকে অশোকনগরে তেল তোলা শুরু হবে।
ONGC-র হিসেব অনুযায়ী, আশোকনগরের অয়েল ফিল্ড থেকে দিনে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সূত্রে বলা হচ্ছে, রাজ্য সরকার আর একটু সাহায্য করলে কাজ এতদিনে শুরু হয়ে যেত। এই দেরির জন্য ১৭,৯২২ ঘনমিটার তেল উৎপাদন হাতছাড়া হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চার বছরে ১৮,২৭৪ ঘনমিটার তেল উত্তোলনের লক্ষ্য ছিল। ফলে রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি মানচিত্রে বাংলার জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও কিছু পিছিয়ে পড়েছে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তেল ও গ্যাস যখন আছে তখন তা তোলা হবেই।
ONGC এরই মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় ১৩টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩টি, নদিয়ায় ১টি এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ৫টি খনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় জমি লিজ নেওয়া ও প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ। দেগঙ্গার চাপাটলা গ্রাম পঞ্চায়েত ও পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর-২ ব্লকে অতিরিক্ত জমি নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রতিটি খনন ক্ষেত্রের জন্য প্রায় ৫ একর জমি প্রয়োজন হয়। ONGC সূত্রে জানা গিয়েছে, তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে প্রায় ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিটার গভীরে। সমস্ত প্রযুক্তিগত সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই পূর্ণমাত্রায় উত্তোলন শুরু হবে। অনুমোদিত ফিল্ড ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী, ১০ মাসের মধ্যে তেল উৎপাদন এবং প্রায় ১৭ মাসের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে পারে।