Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

স্কুলের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কেন পরীক্ষার সিলেবাসের মিল নেই? কোচিং সেন্টারগুলোকে সুবিধা দিতে? প্রশ্ন সংসদীয় কমিটির

সংসদীয় কমিটি বলছে, জাতীয় পরীক্ষার সিলেবাস স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে বিচ্যুত হয়ে কোচিং ইন্ডাস্ট্রিকে সুবিধা দিচ্ছে। 

স্কুলের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কেন পরীক্ষার সিলেবাসের মিল নেই? কোচিং সেন্টারগুলোকে সুবিধা দিতে? প্রশ্ন সংসদীয় কমিটির

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 8 December 2025 19:16


দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি আর দুর্বল ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন প্রবল বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়ই সংসদের স্থায়ী কমিটি তুলে ধরল কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হল, “স্কুলের পাঠ্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে পরীক্ষার সিলেবাস কেন অন্য পথে হাঁটছে? এই পরিবর্তনে কি কোচিং–কেন্দ্রিক ব্যবসাকেই শক্তিশালী করা হচ্ছে?”

কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির পর্যবেক্ষণ—এনটিএ পরিচালিত বহু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এখন আর স্কুলের কারিকুলামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হয় না। এর ফলে যে ছাত্রছাত্রীরা অতিরিক্ত কোচিংয়ের সামর্থ্য রাখে না, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কমিটির মতে, এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, সমান সুযোগের নীতি ভঙ্গ করছে।

খাতা–কলমের পরীক্ষায় ফিরতে হবে—CBT শুধু সরকারি নিয়ন্ত্রণে

প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে কেন্দ্র যখনও প্রযুক্তিনির্ভর CBT–কেই এগিয়ে রাখতে চায়, সংসদীয় কমিটি একেবারে উল্টো অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, খাতা–কলম পরীক্ষার ঝুঁকি চোখে দেখা যায়, কিন্তু CBT পরীক্ষায় হ্যাকিংয়ের বিপদ গভীর ও অদৃশ্য।

কমিটির মত, এনটিএ–র উচিত UPSC ও CBSE–র উদাহরণ মেনে আবার কাগজ-কলম মডেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে যদি CBT হয়ও, তা যেন কেবলমাত্র সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হয়, বেসরকারি কেন্দ্রে নয়।

NEET 2024 বিতর্কের পর ভরসা ফেরানোই এখন সবচেয়ে জরুরি

গত বছরের NEET পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। কমিটির রিপোর্ট বলছে, এনটিএ–র ১৪টি পরীক্ষার মধ্যে ৫টিতে বড়সড় ত্রুটি এবং তিনটি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল।

ফলে পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাধাকৃষ্ণন কমিটিকে নাকচ—‘প্রথমে নিরাপত্তা, পরে প্রযুক্তি’

ইসরোর প্রাক্তন প্রধান কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন কমিটি ধাপে ধাপে CBT–তে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সংসদীয় কমিটির স্পষ্ট বক্তব্য, “প্রথমে পরীক্ষার নিরাপত্তার বলয় মজবুত করতে হবে, তারপর প্রযুক্তিগত পরিবর্তন।”

অর্থাৎ নিরাপত্তা ছাড়া আগ্রসর হওয়ার সুযোগ নেই।

এনটিএ–র উদ্বৃত্ত ৪৪৮ কোটি—তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি

গত ছ’বছরে এনটিএ আয় করেছে প্রায় ৩,৫১২.৯৮ কোটি টাকা, ব্যয় করেছে ৩,০৬৪.৭৭ কোটি। উদ্বৃত্ত—৪৪৮ কোটি টাকা।

কমিটির প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থ এখন কোথায় ব্যবহার হচ্ছে? তা কি সত্যিই পরীক্ষার অবকাঠামো উন্নতিতে লাগানো হচ্ছে? পাশাপাশি তাদের সুপারিশ, এই তহবিল স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা–নিরাপত্তা, নিজস্ব সার্ভার, প্রযুক্তিগত নজরদারি ইত্যাদিতে ব্যয় করতে হবে।

CUET ফলপ্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ— অ্যাকাডেমিক বর্ষ চেপে যাচ্ছে

এসবের পাশাপাশি, CUET–এর ফল প্রকাশে দেরি চলছে বেশ কিছু বছর ধরেই। কমিটির রিপোর্ট জানায়, ভর্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, অ্যাকাডেমিক সেশনের শুরু পিছোচ্ছে, ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফলপ্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত।

কোচিং ইন্ডাস্ট্রির ‘দাপট’! স্কুল সিলেবাসেই ফিরতে হবে জাতীয় পরীক্ষা

এই রিপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, “স্কুলের কারিকুলাম থেকে সিলেবাস সরিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে আলাদা পথে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়—এটি কোচিং ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে প্রভাবিত সিদ্ধান্ত।”

কমিটির বক্তব্য, 

•    পরীক্ষার প্রশ্ন অবশ্যই স্কুল পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে
•    যাতে অযথা কোচিং নির্ভরতা না বাড়ে
•    আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো বঞ্চিত না হয়
•    শিক্ষার ক্ষেত্র আরও সমতামূলক হয়

এছাড়া লাগামহীন কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণে উচ্চস্তরের কমিটি গঠনের সুপারিশও করেছে তারা।

NAAC-এ ঘুষের অভিযোগ—অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ

সিবিআই ইতিমধ্যেই তদন্ত করছে NAAC–এ ঘুষের অভিযোগ নিয়ে। অভিযোগ—গুন্টুরের KLEF–কে A++ গ্রেড দিতে টাকা লেনদেন হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির দাবি, অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ তদন্ত, সংসদে রিপোর্ট পেশ, মূল্যায়ন আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হতে হবে।

NAAC ইতিমধ্যেই ২০০টি প্রতিষ্ঠানের গ্রেড পুনর্বিবেচনা করেছে, ৯০০ পিয়ার অ্যাসেসর বাদ দিয়েছে। তবে কমিটির মতে, পুরো প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে রাখা উচিত।

নতুন অ্যাক্রিডিটেশন সিস্টেম আসছে শিগগিরই

২০২২–এর রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এক নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি শীঘ্রই চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক।

দেশজুড়ে পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় কমিটির মূল প্রশ্ন, “শিক্ষার ভিত্তিকাঠামো কি কোচিংনির্ভর বাণিজ্যের হাতে চলে যাচ্ছে?”
শিক্ষাজগতের মত, এই রিপোর্ট ভবিষ্যতের পরীক্ষাব্যবস্থার জন্য এক স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে।


```