দ্য ওয়াল ব্যুরো : অসমে শনিবার লোকের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, কতজন এনআরসি থেকে বাদ পড়ল?
বিদেশিদের চিহ্নিত করার জন্য ১৯৫১ সালে প্রথমবার অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছিল। কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট ফের সেই তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেয়। সেইমতো চার বছর ধরে তালিকা প্রস্তুত হয়। গত বছর জুলাইতে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হল। তাতে মোট ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিলেন এমন ৩ কোটি ১১ লক্ষ লোকের নাম চূড়ান্ত তালিকার অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
১৯ লক্ষ মানুষের নাম জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে নেই শুনে অসমের মানুষ যে প্রশ্নটি করছেন, তা হল, যারা বাদ পড়েছেন, তাঁরা এবার কী করবেন? ইতিমধ্যে কেন্দ্র ও অসম সরকার মানুষকে আশ্বাস দিয়ে বলেছে, যাঁরা এনআরসি থেকে বাদ পড়লেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হবে না। এখনই তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের বাংলাদেশেও পাঠানো হবে না।
সরকারের পরামর্শ, যাঁদের নাম এনআরসি-তে নেই, তাঁরা আইনের আশ্রয় নিন। প্রথমে তাঁরা যান ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। তারপর যান দেওয়ানি আদালতে। চুড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে তাঁদের আবেদন করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যাঁর নাম জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে নেই, তিনি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট এবং ১৯৬৪ সালের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল অর্ডার অনুযায়ী একমাত্র ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করতে পারে।
অসমে মোট ১০০ টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আছে। তার মধ্যে ৫৬ টি ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানো যাবে। সরকার শীঘ্র আরও ২০০ টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তৈরি করবে। তার জন্য ২২১ জনকে ইতিমধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে।