
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 January 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুরের হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ কাঠগড়ায় উঠেছে ‘নিষিদ্ধ’ স্যালাইন। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কার্যত ‘গাফিলতি’র কথা স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় যে কোম্পানির স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই স্যালাইন আদতে কী, কাদের দিতে হয়, সেইসব প্রশ্ন জেগেছে আমজনতার মনে।
এই মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন। ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের এই স্যালাইনকেই বাতিল করা শুরু হয়েছে। যদিও এটিকে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল রাজ্য সরকার। তাও এই স্যালাইন কীভাবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে ব্যবহার করা হচ্ছিল তা নিয়েই সবথেকে বেশি বিতর্ক।
রিঙ্গার ল্যাকটেট আদতে শরীরে ফ্লুইড বা জলের অভাব পূরণ করে। সাধারণত ফ্লুইড কমে গেলে যে সমস্ত উপাদানের প্রয়োজন তা সব স্যালাইনে থাকে না। কিন্তু রিঙ্গার ল্যাকটেট ব্যতিক্রম। তাতে সেইসব উপাদান থাকে বলেই ব্যবহার করা হয়।
সব রোগীকেই যে এই রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়া হয় এমনটা নয়। ডায়েরিয়া হলে বা গর্ভবতী কোনও মহিলাকে এই স্যালাই দেওয়া হয় কারণ সেই সময়ে শরীরে জলের অভাব হয়ে যায়। এছাড়া যাদের রক্তচাপের সমস্যা থাকে, কোনও অস্ত্রোপচারের পর শরীরে জলের অভাব হয়, তাদেরও এই স্যালাইন দেওয়া হয়।
তাহলে কি রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনেই আশঙ্কা রয়েছে? চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, যে স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে তা একটি ব্র্যান্ডের একটি বিশেষ ব্যাচের স্যালাইন। আর এই স্যালাইন তৈরি করে এমন বহু ব্র্যান্ড রয়েছে। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু রোগীদের আতঙ্কিত হওয়াটা যে স্বাভাবিক এমনও বলছেন চিকিৎসকরা। কারণ কী স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, তা আদতে নিষিদ্ধ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা, তা বোঝা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্যালাইন কাণ্ডে প্রাথমিক রিপোর্টে স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের কমিটি অনুমান করেছে যে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনই প্রসূতিদের অসুস্থতার কারণ। সবটা নিশ্চিত হতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তবে স্যালাইনের মধ্যেই কোনও গন্ডগোল হয়েছিল, নাকি সিনিয়র ডাক্তার না থাকার গাফিলতিতেই আদতে এত বড় কাণ্ড ঘটে গেছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পন্থ।