রাজ্যে ফের সক্রিয় বর্ষা। মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান করছে। জলপাইগুড়ি থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অক্ষরেখা।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 6 August 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ফের সক্রিয় বর্ষা। মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান করছে। জলপাইগুড়ি থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অক্ষরেখা। এর সঙ্গে মধ্য বাংলাদেশে অবস্থান করছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। বিহার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত যে অক্ষরেখাটি বিস্তৃত হয়েছে, তা গঙ্গা-পার বাংলার উপর দিয়ে গেছে। এর প্রভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে প্রচুর জলীয় বাষ্প। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এর জেরে আগামী কয়েক দিন রাজ্য জুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। গয়েরকাটায় ১২০ মিমি, বক্সাডুয়ার ও দলগাঁওয়ে ৮০ মিমি, মেখলিগঞ্জ ও আনন্দপুরে ৭০ মিমি, কুমারগ্রাম ও গোপালপুরে ৬০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া ময়নাগুড়ি, ওদলাবাড়ি, হাসিমারা, গাজোলডোবা সহ বহু জায়গায় ৪০-৫০ মিমির বৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে শুক্রবার, শনিবার ও রবিবারও। সোমবার ফের অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে। মঙ্গলবারও পাঁচ জেলাজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলবে।
এই টানা বৃষ্টির ফলে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা সহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়বে। প্লাবিত হতে পারে নিচু এলাকা। পার্বত্য এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা থাকছে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে।
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। মোহনপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৭০ মিমি। ডায়মন্ড হারবার, আমতা, সিউড়িতে ৬০ মিমি, ক্যানিং ও মেদিনীপুরে ৫০ মিমি। রাজনগর, তিলপাড়া ব্যারেজ, কল্যাণী সহ একাধিক স্থানে ৪০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় দু-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। শুক্রবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে।
শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই দু-এক পশলা বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়বে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণেই অস্বস্তি আরও বাড়বে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।
বর্ষাকালে কয়েক দিন বৃষ্টিপাত হঠাৎ করে অনেক কমে গেলে তাকে বলে ‘ব্রেক মনসুন’ বা বর্ষার বিরতি। এটি এক ধরনের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মৌসুমী বায়ুর স্থান পরিবর্তনের ফলে এই বিরতি দেখা দেয়। সাধারণত একটানা ৩০ থেকে ৬০ দিনের মনসুন প্রবাহের মধ্যে এই বিরতি ঘটে। তবে এবার রাজ্যে ফের সক্রিয় বর্ষা। তাই উত্তরবঙ্গ হোক বা দক্ষিণ, আগামী কয়েক দিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছেই।