ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
.jpeg.webp)
ঝাড়গ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 22:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের এখনও বেশ কয়েকমাস বাকি। কিন্তু তার আগেই ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এবার সরাসরি কমিশনের (Election Commission) সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee )।
ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় বুধবার ঝাড়গ্রামে সভামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, “ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছো? ক্ষমতা দেখাচ্ছো? কার ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ করছো? অমিত শাহর দালালি করছো?”
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশাসনের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের প্রটেক্ট করার দায়িত্ব আমাদের। ওরা কিছু করতে পারবে না। ওরা তো বসন্তের কোকিল— দু’মাসের জন্য আসে, আবার উড়ে যায়।”
বক্তব্যের শেষ অংশেও ফের সরকারি কর্মী, অফিসারদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কর্মচারী থেকে অফিসার, সকলে নিশ্চিন্তে থাকবেন, আপনারা মানুষের কাজ করেন, তাই আপনাদের দেখা আমাদের কর্তব্য।" আর বাসিন্দাদের উদ্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বরাভয়, "আমি আপনাদের পাহারাদার ছিলাম, আছি, থাকব, শুধু খেয়াল রাখবেন, যাতে কারও নাম না ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত আদতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন আসার আগেই পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কমিশন। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি এও বলেন, "বাংলা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করবে না।"
বিজেপি ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে মমতা বলেন, "খেতে এসো রান্না করে খাওয়াব, কিন্তু নাম কাটতে হলে ঘরে ঢুকতেও দেব না। ওরা আমাকে জব্দ করতে চাইলে মানুষ ওদের স্তব্ধ করে দেবে।" হুঁশিয়ারির সুরে এও বলেন, "জ্যান্ত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বড় ভয়ঙ্কর, আমাকে আহত করার চেষ্টা করবেন না!"
কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। ভোটার লিস্ট সংশোধনের নামে যদি বাংলার প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, বাংলার ওপর অত্যাচার যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমি কিন্তু সারাবিশ্ব ঘুরে তোমাদের মুখোশ খুলে দেব।"