আগামিকাল বৃহস্পতিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কর্তাদের অনলাইনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওবিসি (OBC Case) সার্টিফিকেট ইস্যুতে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড (state and joint Entrance board)। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলায় একের পর এক প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৌশিক চন্দ। জানতে চাইলেন—“আমার আদেশের পর আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? কাউন্সেলিং বন্ধ রেখেছেন কি?”
বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী এদিন বোর্ড কিছু তথ্য জমা দেয় হাইকোর্টে। তবে তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন বিচারপতি। তাই আগামিকাল বৃহস্পতিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কর্তাদের অনলাইনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিক্যাল এলায়েড সায়েন্স কোর্সের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ জুলাই, ২০২৪। রেজাল্ট প্রকাশিত হয় ১৪ নভেম্বর। পরীক্ষার ফল প্রকাশের এতদিন পরেও কাউন্সেলিং শুরু না হওয়ায় একাধিক পরীক্ষার্থী আদালতের দ্বারস্থ হন।
প্রথমে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে শুনানি চললেও পরে তা যায় বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। সেখানে বিচারপতি জানতে চান, “সার্টিফিকেট ক্যানসেল হয়নি?” জয়েন্ট এন্ট্রাস বোর্ডের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
তা শুনেই বিচারপতির প্রশ্ন—“সুপ্রিম কোর্টে পেন্ডিং থাকলেও কেউ আবেদন করতে গেলে তাঁর কাছে কি বাতিল সার্টিফিকেট থাকবে?” উত্তরে জানানো হয়—না, সার্টিফিকেট বাতিল হয়নি।
তাতে ক্ষুব্ধ বিচারপতির মন্তব্য—“আমি চাই না কেউ বাতিল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ভর্তি হোক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ভর্তি করা হল? এটা বিস্ময়কর।” এরপরই বিচারপতি একের পর এক প্রশ্ন তোলেন, “কবে নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল?”, “কতজনকে হোল্ডে রাখা হয়েছে?”, “এসএমএস করে কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল—তা করা হয়েছে?”
জবাবে এজি (অ্যাডভোকেট জেনারেল) আদালতকে জানান, নোটিফিকেশন হয়েছিল ২৩ মে। তবে একাধিক ভর্তির ক্ষেত্রে বিচারপতির আদেশ মানা হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি। আদালতে আরও জানানো হয়, জয়েন্ট এন্ট্রান্স ২০২৩-এর কাউন্সেলিং হয়ে গিয়েছে, ভর্তি হয়ে গিয়েছে বহুজন।
জবাবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের রেজিস্ট্রারকে আদালতে প্রশ্ন করেন বিচারপতি—“আমার অর্ডারের পর আপনারা কী করলেন? এসএমএস বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সার্টিফিকেট জমা দিতে—কিছুই তো করা হয়নি!”
আগামিকাল বৃহস্পতিবার ফের মামলার শুনানি। বাতিল সার্টিফিকেটধারীদের কাউন্সেলিং ও ভর্তি আদৌ টিকবে কি না, নাকি বাতিল হবে সবটাই, আপাতত আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষার্থীরা। ।