বর্তমানে ঘূর্ণাবর্ত উত্তর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরেছে এবং ধীরে ধীরে তা উত্তরবঙ্গে চলে যেতে পারে।

শেষ আপডেট: 1 August 2025 10:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বর্ষা ধীরে দিশা বদলাচ্ছে। মৌসুমী অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের অবস্থান পরিবর্তনের জেরে দক্ষিণবঙ্গে কমছে বৃষ্টির প্রবণতা, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ঘনাচ্ছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
বর্তমানে ঘূর্ণাবর্ত উত্তর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরেছে এবং ধীরে ধীরে তা উত্তরবঙ্গে চলে যেতে পারে। মৌসুমী অক্ষরেখাও উঠে এসেছে পুরুলিয়া ও কাঁথির উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে, বাড়বে উত্তরবঙ্গে।
আজ শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতার পাশাপাশি কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা, হুগলি, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎসহ। কোথাও কোথাও ৩০-৪০ কিমি গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
শনিবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমবে। বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। বিশেষ করে উপরের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। রবিবার থেকে বুধবার দক্ষিণবঙ্গে কার্যত বৃষ্টি অনেকটাই কমে যাবে। আকাশ থাকবে পরিষ্কার বা আংশিক মেঘলা। দু-এক জায়গায় সামান্য হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য নয়।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় আসতে চলেছে পরিবর্তন। আজ শুক্রবার প্রায় সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। কোচবিহার, মালদা, দুই দিনাজপুরেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার থেকে সোমবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার ও বুধবারও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
বিশেষ সতর্কতা:
তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীতে জলস্তর বাড়বে। নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে পারে। পার্বত্য এলাকায়, বিশেষত দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কেমন থাকবে কলকাতার পরিস্থিতি?
আকাশ থাকবে মেঘলা, বেলা বাড়লে কিছুটা আংশিক মেঘলা হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ, ফলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে। তাপমাত্রা থাকতে পারে সর্বনিম্ন ২৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার ও শনিবার বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও দমকা ঝোড়ো হাওয়া (৩০–৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা)। রবিবার থেকে বৃষ্টি কমবে, তাপমাত্রা বাড়বে এবং অস্বস্তি বাড়াবে আর্দ্রতা।
অরুণাচল প্রদেশ, আসাম ও মেঘালয়ে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে বিহার, ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, সিকিম ও উত্তরবঙ্গে।
উত্তরবঙ্গে প্রবল বর্ষণ ও সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পার্বত্য অঞ্চল ও নদীর দু’ধারের বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, আর্দ্রতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে বৃষ্টির বিরতি চলাকালীন।