বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট ভোটারের এক বিরাট অংশ সরাসরি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটের আগে এটাই শেষ রাজ্য বাজেট (West Bengal State Budget 2026)। তাই এই বাজেট যে কার্যত ‘ভোট-বাজেট’, তা নিয়ে শুরু থেকেই জল্পনা ছিল। সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল বাজেট পেশ হতেই। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে (Lakshmi Bhandar allowance increased) ভাতার অঙ্ক বাড়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার (Mamata Banerjee)।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা এত দিন যে ১২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, তা বেড়ে হচ্ছে ১৭০০ টাকা। সাধারণ বিভাগের মহিলাদের ক্ষেত্রেও ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ, ভোটের ঠিক আগেই লক্ষ লক্ষ মহিলার হাতে মাসে আরও ৫০০ টাকা তুলে দিল রাজ্য সরকার। যা ভোটের মুখে মহিলা ভোট ব্যাঙ্কে মমতার মাস্টারস্ট্রোক বলেও মনে করা হচ্ছে (master stroke in women vote bank)।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই প্রকল্পটি চালু করে রাজ্য। তারপর পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা—যা থেকেই স্পষ্ট, এই প্রকল্পকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে নবান্ন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে ভাতা বাড়ানো হয়। তখন ফেব্রুয়ারির বাজেটে ঘোষণা হয়েছিল, ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হবে। এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর হয় এবং ভোট চলাকালীনই সেই বাড়তি টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে গ্রাম বাংলায় তৃণমূলের ভাল ফলের নেপথ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বড় ভূমিকা ছিল।
বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট ভোটারের এক বিরাট অংশ সরাসরি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। সেই হিসেব মাথায় রেখেই ভোটের মুখে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্ত করতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সামনে রেখেই ছাব্বিশের লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।