এই অবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিন অধিকারকর্মী— অনুরাগ মৈত্রেয়ী, রায়না রায় এবং ঊর্মি ড্যানিয়েলা আজার। শিল্পী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন কর্মী অনুরাগ মৈত্রেয়ীর কথায়, রাষ্ট্রীয় নথিতে রূপান্তরকামীদের স্বীকৃতি না থাকা অত্যন্ত অপমানজনক। তিনি বলেন, “নথিতে আমাদের নাম না থাকা মানে সমাজের চোখে আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। এটা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। এটা আমাদের মানবিক সত্ত্বাকেই উপেক্ষা করা।”
.jpeg.webp)
SIR নিয়ে বিভ্রান্তিতে রুপান্তরকামীরা
শেষ আপডেট: 16 November 2025 19:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব পরিচয়পত্রের তালিকায় এখনও ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের স্বীকৃতি নেই। এই অভিযোগে উদ্বেগ ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির মধ্যে। SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনে মোট ১১টি নথির উল্লেখ থাকলেও সেখানে স্পষ্ট ভাবে নেই ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের আলাদা জায়গা। যার ফলে বহু রূপান্তরকামী মানুষ প্রতিদিন পরিচয় জটিলতা, নথি তৈরি, সরকারি পরিষেবা পাওয়া এবং সামাজিক স্বীকৃতি— সব ক্ষেত্রেই কম বেশি অসুবিধার মুখে পড়ছেন।
এই অবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিন অধিকারকর্মী— অনুরাগ মৈত্রেয়ী, রায়না রায় এবং ঊর্মি ড্যানিয়েলা আজার। শিল্পী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন কর্মী অনুরাগ মৈত্রেয়ীর কথায়, রাষ্ট্রীয় নথিতে রূপান্তরকামীদের স্বীকৃতি না থাকা অত্যন্ত অপমানজনক। তিনি বলেন, “নথিতে আমাদের নাম না থাকা মানে সমাজের চোখে আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। এটা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। এটা আমাদের মানবিক সত্ত্বাকেই উপেক্ষা করা।”
অনুরাগ মৈত্রেয়ীর দাবি, পরিচয়পত্র না থাকার ফলে বহু রূপান্তরকামী শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সরকারি স্কিম, এমনকি চাকরির ক্ষেত্রেও নিয়মিত বৈষম্যের শিকার হন।
পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার কর্মী রায়না রায় বিষয়টিকে দেখছেন আরও বড় সামাজিক সংকট হিসেবে। রায়নার অভিযোগ, “একদিকে সরকার অন্তর্ভুক্তির কথা বলে, অন্যদিকে সরকারি নথিতে আজও ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের জায়গা নেই— এটা স্পষ্ট দ্বিচারিতা।” তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় নথিতে স্বীকৃতি না থাকলে সমাজেও সেই মানুষদের প্রতি সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। পরিচয় নথিভুক্ত হলে বৈষম্য কমবে বলেও মত তাঁর।
বিজ্ঞানকর্মী ও গণ–আন্দোলন কর্মী ঊর্মি ড্যানিয়েলা আজার বলেন, বারবার নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে বাধ্য হওয়া অত্যন্ত অপমানজনক। ঊর্মির কথায়, “পরিচয়পত্র কোনও অনুগ্রহ নয়— এটা আমাদের মৌলিক অধিকার।” তিনি জানান, আজও বহু ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে, সরকারি কাগজ তৈরি করতে বা হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েও অসুবিধার মুখে পড়েন, কারণ নথিতে তাদের পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
সকলেরই দাবি, SIR–এ অবিলম্বে ট্রান্সজেন্ডারদের আলাদা পরিচয় যুক্ত করতে হবে, নথি সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, সরকারি দফতরে ট্রান্স–ফ্রেন্ডলি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে, এবং রাষ্ট্রকে বৃহত্তর সচেতনতার দায়িত্ব নিতে হবে।
অধিকারকর্মীদের মতে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিললেই বদলাবে সমাজের আচরণ, আর বদলাবে হাজারো রূপান্তরকামী মানুষের জীবন।