রাজ্যের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনকেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে মজুত ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 October 2025 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক রাজ্যে কাশির ওষুধ (Cough Syrup) খেয়ে শিশু মৃত্যুর (Child Death) ঘটনায় আগেই সতর্ক হয়েছে রাজ্য। ‘বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (BCDA) ‘কোল্ডরিফ’ কাফ সিরাপের (Coldrif Cough Syrup Banned) বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবার স্বাস্থ্য ভবনও ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশ দিল।
ওষুধের মান নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও ঝুঁকি না নিতে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (Health Dept)। নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, ওষুধ বণ্টনের (Medicine Supply) আগে প্রতিটি ব্যাচের মান যাচাই বাধ্যতামূলক। এ পর্যন্ত নিয়ম ছিল, ওষুধ বণ্টনের পরই ল্যাবে ব্যাচ পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের ঘটনাকে শিক্ষার জায়গায় রেখে এবার প্রক্রিয়াটি পুরো বদলে দিচ্ছে রাজ্য।
নতুন নিয়ম বলছে, সরকারি সরবরাহের সময়ই বেসরকারি ভেন্ডার সংস্থাকে ওষুধের মানের সার্টিফিকেট দিতে হবে সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরে। ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড ফর ল্যাবরেটরিজ় (NABL)-স্বীকৃত ল্যাব থেকে পরীক্ষিত ওই রিপোর্ট জমা না দিলে ওষুধের নাম স্টোর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (SMIS)–এ অন্তর্ভুক্ত হবে না। অর্থাৎ, সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও ওষুধ সরকারি হাসপাতালে পৌঁছবে না।
রাজ্যের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনকেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে মজুত ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। মেয়াদের মধ্যে থাকা ওষুধ দ্রুত ব্যবহার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্বাস্থ্য ভবনে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ‘কোল্ডরিফ’ কাফ সিরাপের ভূমিকা সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও ওই রাজ্যে বিতরণ হওয়া ব্যাচটি এখনও পশ্চিমবঙ্গে আসেনি, তবুও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিডিএ-র তরফে জানান হয়েছে, মধ্যপ্রদেশে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সিরাপের ব্যাচ রাজ্যে প্রবেশ করেনি। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত বিক্রেতাকে বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় 'দায়ী কাফ সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থা তামিলনাড়ুর একটি ওষুধ কোম্পানি। তার মালিক ইতিমধ্যে গ্রেফতার (Arrest) হয়েছে।