সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন কেউ কাজে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে ‘ডাইস নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ ওই দিনের জন্য কোনও বেতন প্রাপ্য হবে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। আগামী ১৩ তারিখ সেই কর্মসূচি হওয়ার কথা। এই আবহে অবশ্য ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে বলে জানিয়ে দিল প্রশাসন (Nabanna)। এমনকি ধর্মঘটের দিন কোনও কর্মী নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বেতন কাটা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর (Supreme Court DA Verdict) বিষয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করেনি সরকার - এই অভিযোগেই ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগঠন। এই ইস্যুতেই রাজ্যের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ওই দিন সব সরকারি দফতর এবং রাজ্য সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিকে নিয়মিতভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সেই সঙ্গে সমস্ত কর্মীকে নির্ধারিত সময়ে কাজে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ১৩ মার্চ কোনও কর্মীকে ওই দিনের জন্য সাধারণ ছুটি বা অন্য কোনও ধরনের ছুটি দেওয়া হবে না। দিনের প্রথম ভাগ, শেষ ভাগ বা পুরো দিনের জন্যই ছুটি মঞ্জুর করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ধর্মঘটের দিনেও সরকারি কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন কেউ কাজে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে ‘ডাইস নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ ওই দিনের জন্য কোনও বেতন প্রাপ্য হবে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
যদি কোনও কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন, পরিবারের মধ্যে শোকের ঘটনা ঘটে, গুরুতর অসুস্থতার কারণে ১২ মার্চের আগেই দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আগে থেকেই অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি বা অর্জিত ছুটিতে থাকেন—সেই ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিকে আলাদা ভাবে বিবেচনা করা হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ১৩ মার্চ যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে তাঁর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। কেন অননুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ব্যাখ্যা করতে বলা হবে ওই কর্মীকে।
যদি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এবং প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হয়, তবে প্রাপ্য ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে। কিন্তু যদি অনুপস্থিতির কোনও গ্রহণযোগ্য কারণ না থাকে বা নথি পেশ না করা হয়, তবে সেই দিনটিকে ‘ডাইস নন’ হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং বেতন কাটা হবে। নোটিসের জবাব না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে। সেই সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদনও সংশ্লিষ্ট দফতরকে পাঠাতে হবে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutha Mancha) গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীঘাট অভিযান করেছিল। তবে পুলিশের কঠোর ব্যারিকেড এবং অনুমতি না থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। এই টানাপড়েনের মাঝেই আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠন।
এই প্রসঙ্গে সংগঠনের অন্যতম মুখ ভাস্কর ঘোষ বলেছিলেন, “সারা ভারতবর্ষ সুপ্রিম কোর্টের আইন মেনে চলে, কিন্তু এই রাজ্যে আইন চলে কেবল একজনের নির্দেশে। এই রাজ্যে একটাই কোর্ট, সেই কোর্ট হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেমিফাইনাল শেষ, এবার ফাইনাল খেলা হবে ১৩ মার্চ।” রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও আদালত অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।