নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় বলে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন করল রাজ্য সরকার।

ডিএ
শেষ আপডেট: 7 March 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাল রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন জানিয়ে আরও সময় চেয়েছে রাজ্য। আগামী ৩১ ডিসেম্বর (31 December)-এর আগে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মুহূর্তে প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ এরিয়ার-সহ দেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ৩১ মার্চ (31 March)-এর মধ্যে মেটানোর বিষয়টিও বাস্তব পরিস্থিতিতে কঠিন বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ পাওয়ার দাবিতে মোট ৩,১৭,৯৫৪ জন সরকারি কর্মী (Government Employees) রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের হিসাব যাচাই করে বকেয়া নির্ধারণ করতে সময় লাগবে বলেই দাবি রাজ্যের।
এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য জানিয়েছে, সব পেনশনভোগী (Pensioners)-র পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদের কাছে নেই। এই ডেটাবেস মূলত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (Comptroller and Auditor General) বা সিএজি (CAG)-র দফতরে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত সময় লাগবে।
হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্য জানিয়েছে, এআইসিপিআই (All India Consumer Price Index) অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করা হয়। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতনের নথি কেবল ২০১৬ সাল (2016) থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তার আগের সমস্ত তথ্য খুঁজে বের করতে হাতে লেখা সার্ভিস বুক (Service Book) পরীক্ষা করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
রাজ্যের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ মেটানো অনেকাংশে নির্ভর করছে রাজ্য বাজেট (State Budget)-এ পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের উপর। পাশাপাশি সামনে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) থাকায় এত কম সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা কার্যত অসম্ভব বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি (6 February) সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যকে প্রথমে ২৫ শতাংশ ডিএ এরিয়ার-সহ দিতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ৩১ মার্চের (31 March) মধ্যে মেটাতে হবে।
এই নির্দেশের পর থেকেই আন্দোলনে থাকা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চর (Sangrami Joutha Mancha) সদস্যরা সংশয়ে ছিলেন, আদৌ রাজ্য সরকার ডিএ দেবে কি না। সেই নিয়ে তারা একটি স্মারকলিপিও (Memorandum) জমা দেয়। যদিও সরাসরি নবান্নে (Nabanna) গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমে তা পাঠানো হয়।
এর মধ্যেই আবার সুপ্রিম কোর্টে সময় চেয়ে নতুন আবেদন করায় ডিএ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।