তৃণমূলের দাবি, ব্রিগেডে যাওয়ার নাম করে বিজেপির সমর্থিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং মূল দরজারও ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

সাংবাদিক বৈঠকে শশী পাঁজা
শেষ আপডেট: 14 March 2026 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দিন ঘোষণার আগে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বিজেপির সভাকে (West Bengal BJP Brigade Rally) ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর শহরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে গিরিশপার্ক এলাকায় সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মিছিল করে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে (Shashi Panja House Attack)। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তাদের মিছিলে প্রথমে হামলা চালায় তৃণমূল কর্মীরাই।
শনিবার দুপুরের দিকে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ব্রিগেডের উদ্দেশে মিছিল করে রওনা দেন। সেই মিছিল গিরিশপার্ক এলাকায় পৌঁছতেই উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তৃণমূলের দাবি, ব্রিগেডে যাওয়ার নাম করে বিজেপির সমর্থিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং মূল দরজারও ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, তাঁর উপর খুনের চেষ্টা হয়েছে এবং তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের করবেন।
মন্ত্রী দাবি করেন, ওই হামলায় তাঁর ঘাড়, গলা এবং পেটে আঘাত লেগেছে। বহিরাগতদের আক্রমণের জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানান। তবে তিনি এই ঘটনায় পিছিয়ে যাবেন না এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন হামলাকারীকে তিনি নিজে চিহ্নিত করেছেন।
শশী পাঁজার অভিযোগ, ব্রিগেডে লোক জোগাড় করতে অন্য রাজ্য থেকে মানুষ আনা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে আসা লোকজনই এই হামলায় যুক্ত। নারী সুরক্ষার কথা বললেও বাস্তবে বিজেপি এক মহিলা মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, ''ওটা ব্রিগেড নয়, বি-গ্রেড সভা ছিল। আর লোক ভরাতে বহিরাগত এনেছিল বিজেপি। ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে দলে দলে লোক এসে এই হামলা চালিয়েছে।'' মন্ত্রীর সংযোজন, এই ঘটনা প্রমাণ করে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য কী। যারা নারী নিরাপত্তা, সুরক্ষার কথা বলে, তারাই রাজ্যের এক মহিলা মন্ত্রীর বাড়িতে এইভাবে হামলা চালিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা কিছু পোস্টার লাগানো ছিল। ব্রিগেডের পথে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে সেই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। প্রতিবাদ জানাতে তৃণমূল কর্মীরা ফের পোস্টার লাগাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তাদের মিছিলে প্রথমে পাথর ছোড়ে তৃণমূল কর্মীরাই। এই ঘটনায় উত্তর কলকাতা জেলার বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেছে দল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ব্রিগেডের দিনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়।