অভিযোগ, মিছিল করে একদল উন্মত্ত জনতা মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সদর দরজা ভাঙচুর করার চেষ্টা করে এবং এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করে।

শশী পাঁজার বাড়ি ভাঙচুর
শেষ আপডেট: 14 March 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের দিনেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর কলকাতার গিরিশপার্ক এলাকা। অভিযোগ, রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী ডাক্তার শশী পাঁজার (Shashi Panja) বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করেছে বিজেপি কর্মীরা (BJP)। পাল্টা পদ্ম শিবিরের দাবি, তাদের মিছিলে তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়। দুই পক্ষের এই হাতাহাতি থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে জখম হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর।
শনিবার সকালে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিলেন। গিরিশপার্কে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় উত্তেজনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, ব্রিগেডে যাওয়ার নাম করে বিজেপি আশ্রিত ‘দুষ্কৃতীরা’ পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাসভবনকে নিশানা করে। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিতে তৃণমূল কর্মীরা আগে থেকেই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জমায়েত করেছিল। তাদের দাবি, পুলিশ নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল এবং শাসকদলের কর্মীরাই মিছিল লক্ষ্য করে প্রথম পাথর ছোড়ে। যার জেরে বিজেপির উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন বৌবাজার থানার ওসি। এই মুহূর্তে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদে থমথমে হয়ে রয়েছে গিরিশ পার্ক চত্বর।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, গিরিশপার্কে তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা কিছু পোস্টার লাগানো ছিল। ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে সেই পোস্টারগুলি ছিঁড়ে দেন। এর প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মীরা ফের পোস্টার লাগাতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। শশী পাঁজার অভিযোগ, “বিজেপি গুন্ডারা বাস থেকে নেমে হামলা চালিয়েছে। আমার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে, জানলার কাচ ভেঙে দিয়েছে। ওদের বাসে ইট, কাচের বোতল আর বোমা মজুত আছে। ওরা খুনি, গণতন্ত্রকে শেষ করতে চাইছে।”
পাল্টা অভিযোগ বিজেপির
পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবিরও। তাদের দাবি, ব্রিগেডে যাওয়ার পথে তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম তাদের বাস লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এই হামলায় গুরুতর জখম হন উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখলেও তৃণমূলের ‘সন্ত্রাস’ রুখতে কোনও সক্রিয়তা দেখায়নি।
রণক্ষেত্র গিরিশ পার্ক
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইটের আঘাতে জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। দু’পক্ষের এই ইট-পাটকেল ছোড়ার জেরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।