২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় ক’দফায় ভোট হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ইঙ্গিত মিলছে, ভোটের দফা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ভাবনা অদ্ভুতভাবে একসুরে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 18 January 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৫ সালের কথা। পরের বছর ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election )। এক বছর আগে থেকে মুকুল রায় দাবি করছিলেন, বাংলায় যথাসম্ভব বেশি দফায় ভোট হোক। ২০১১ সালে বাংলায় তথাকথিত পরিবর্তনের নির্বাচনের সময়েও ৭ দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। তবে শেষমেশ ভোট হয়েছিল ৬ দফায়। তার পর থেকে গত দুই বিধানসভা ভোটে বিরোধীরা এই সূত্রকেই আঁকড়ে থেকেছিলেন। কমিশনের মতও ছিল তাই। কিন্তু এবার উলোটপুরাণ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026 ) ক’দফায় হওয়া উচিত তা নিয়ে অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে কমিশন ও বিজেপির ভাবনা।
ক’দফায় ভোট হতে পারে এবার?
পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটের দফা যে কমে যেতে পারে তা নিয়ে একটা জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সেই আলোচনা ‘বাসুদার চায়ের দোকান পর্যন্ত’ পৌঁছে গেছে। রবিবার সকালে চায়ের আড্ডায় সেখানেও হিসাব কষা চলছে—‘শেষমেশ ক’দফায়’ ভোট চাইছে বিজেপি?
মুরলীধর লেন তথা রাজ্য বিজেপির দফতর সূত্রের খবর, বাংলায় বিহারের মতোই ভোট হোক। অতীতে বিহারেও বেশি দফায় ভোট হতো। ২০২০ সালে বিহারে ৩ দফায় হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু ২০২৫ সালে মাত্র ২ দফায় ভোট হয় বিহারে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, বাংলাতেও ২ দফাতেই ভোট হলে ভাল হয়। কারণ, বেশি দফায় ভোট মানেই শাসক দলের সুবিধা। যেখানে ভোট হয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে ক্যাডার অন্যত্র শিফট করে নিয়ে যায়। তা ছাড়া বেশি দফায় ভোট হলে অতদিন ধরে কর্মীদের উৎসাহ ধরে রাখা যায় না। ক্লান্তি আসে।
কমিশন কী ভাবছে?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা সিইও দফতরও এ ব্যাপারে ভিন্ন মত নয়। সূত্রের খবর, তাঁরাও মনে করছেন, ৭-৮ দফায় ভোট করানো অহেতুক ঝক্কি। তাতে অনেক দিন ধরে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যের এ প্রাপ্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াতে হয়। তা ছাড়া যে উদ্দেশে ভোটের দফা বাড়ানো হয়েছিল, তাও কার্যকর হয়নি। তার পরেও ভোটে ছাপ্পা হয়েছে বা বুথ দখল হয়েছে। সুতরাং ২ থেকে ৩ দফাতেই ভোট করিয়ে দেওয়া বাঞ্চনীয়।
তৃণমূল কী বলছে?
২০২১ সালে বাংলায় ৮ দফায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টতই বলেছিলেন, ৮ দফায় ভোট করানো বিজেপির চক্রান্ত। এ বার যখন ভোটের দফা কমানোর ব্যাপারে আলোচনা চলছে, তখন তৃণমূল এক প্রকার জল মাপছে। এ বার তাদের হাতেও কিছু নেই। কমিশন যা ঠিক করবে তাই হবে।
কবে ভোট ঘোষণা হতে পারে?
২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময়ে ৫ মার্চ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছিল। ২০২১ সালে ভোট ঘোষণা হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। সেই মোতাবেক এবার কমবেশি ওই সময়েই ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। জানা গেছিল, SIR-এর পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সির জন্য ১৪ তারিখের ডেডলাইন রক্ষা করা ক্রমশই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তার ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ৭ থেকে ১০ দিন পিছিয়ে দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। সেক্ষেত্রে ঘুরে ফিরে সেই ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের ঘোড়ায় ভোট ঘোষণা হবে।
সাধারণত ভোটের দিন ঘোষণা থেকে প্রথম দফার ভোট পর্যন্ত অন্তত ১ মাস সময় দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোট সেক্ষেত্রে হতে পারে এপ্রিলের গোড়ায়। এবং শেষমেশ দুই দফায় ভোট হলে অনেক দিন পর এপ্রিলের মধ্যেই ফল ঘোষণাও হয়ে যেতে পারে।