২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট ঘোষণা মার্চের প্রথম সপ্তাহেও হচ্ছে না। কবে প্রকাশ পেতে পারে ভোটের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট? সে নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 11 February 2026 21:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ECI) বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। কমিশনের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে প্রশ্নটি উঠেছে তা হল— ভোট (West Bengal Election 2026 date) ঘোষণা হবে কবে? তা কি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই হয়ে যাবে?
এ ব্যাপারে কমিশন সূত্রে একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সে ব্যাপারে বিশদে জানার আগে একবার ফিরে দেখা জরুরি। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। তার আগের বার অর্থাৎ ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোট ঘোষণা করা হয় ৪ মার্চ। এবং বাংলায় পরিবর্তনের নির্বাচন বলে পরিচিত ২০১১ সালের বিধানসভা ভোট ঘোষণা হয়েছিল ১৭ মার্চ।
মনে রাখতে হবে, ২০২১ সালে বাংলায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বিধানসভার মেয়াদ ফুরনোর দিন নির্ধারিত ছিল। তার মধ্যেই ৮ দফার ভোট করে ফল ঘোষণার তাড়া ছিল কমিশনের। তাই ভোট ঘোষণা এগিয়ে আনা হয়েছিল। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি।
একই ভাবে ২০১৬ সালে ৬ দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। তখনও প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে বাংলায় ভোট গ্রহণ চলেছিল। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হয়েছিল ৪ এপ্রিল। আর শেষ দফার ভোট গ্রহণ হয়েছিল ৫ মে। ফলাফল ঘোষণা হয়েছিল ১৯ মে। অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটে যাঁরা প্রার্থী ছিলেন তাঁদের ফলের জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছিল। তাই ভোট ঘোষণায় গত বারও তাড়া ছিল।
২০১১ সালেও ৬ দফার ভোট হয়েছিল। তবে কমিশন ১৮ এপ্রিল ভোট শুরু করে তুলনায় কম সময়ের মধ্যে ৬ দফার ভোট সেরে ফেলেছিল। শেষ দফার ভোট হয়েছিল ১০ মে। ৬ দফার ভোট হয়ে গেছিল ২৩ দিনের মধ্যে। তাই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণায় তাড়াহুড়ো করেনি কমিশন। ভোট ঘোষণা হয়েছিল ১৭ মার্চ।
এবার ভোট ঘোষণা কবে? (West Bengal Assembly Election 2026 Dates)
কমিশন এবং শাসক দল বিজেপি— দুটি সূত্রেই দাবি যে এবার তুলনামূলক অনেক কম দফায় ভোট গ্রহণ হবে। ২ থেকে ৩ দফায় ভোট সেরে ফেলবে কমিশন। এটা ঠিক যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অসম, কেরল, তামিলনাড়ুতে ভোট হবে। তবে বাংলা ছাড়া আর কোনও রাজ্যেই এক বা দু’দফার বেশি ভোট করাতে হয় না কমিশনকে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ রয়েছে মে পর্যন্ত, তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ''যতদিন না নতুন সরকার তৈরি হচ্ছে, ততদিন মেয়াদ থাকছে বিধানসভার''। তাই মাত্র দুই বা তিন দফায় ভোট করালে কমিশনের বেশি সময় লাগবে না। কমিশনের দিল্লি দফতর এবং কলকাতায় সিইও অফিস দুটি সূত্রেই বলা হচ্ছে, সেই কারণেই এ বার মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা খুব কম। বরং যে দুই বা তিন দফায় ভোট হবে তা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করায় বেশি নজর দেবে কমিশন। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভোট ঘোষণা করলেও আরামসে মে মাসের গোড়ায় ফল ঘোষণার দিন ফেলা যাবে।
সিইও দফতর সূত্রে এও খবর, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসবে কলকাতায়। প্রস্তুতি বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যে যে বিষয়ে কমিশন খামতি চিহ্নিত করবে, সেগুলি নিশ্ছিদ্র করার নির্দেশ দেবে কমিশন। তার পর মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে ভোট ঘোষণা করা হতে পারে। এমনিতেও মার্চের প্রথম সপ্তাহে কমিশনের টিম আসার পর ৩ ও ৪ মার্চ দোলযাত্রা ও হোলি উৎসব রয়েছে। তার পরই দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট ঘোষণা হবে। তার আগে নয়।
তবে হ্যাঁ, ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর কেবল মাত্র একটি পরিস্থিতিতেই ভোট ঘোষণায় তাড়াহুড়ো করতে পারে কমিশন। তা হল, চূড়ান্ত ভোটার তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে যদি সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়, তা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, বিতর্ক যাই থাক নির্বাচন কমিশন একবার ভোট ঘোষণা করে দিলে সর্বোচ্চ আদালত তাতে আর হস্তক্ষেপ করে না। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কোনও অচলাবস্থায় কমিশন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে পারে। নইলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে অন্ততপক্ষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে।