আইনি জটিলতা এবার পৌঁছেছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, সোমবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 April 2026 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই তৎপরতা শুরু হল বিচারবিভাগীয় স্তরে। দক্ষিণ শহরতলীর জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশেই ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ প্রতিষ্ঠানে বসতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ট্রাইবুনাল (West Bengal SIR Tribunal)। সূত্রের খবর, ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিন-চার দিনের মধ্যেই সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে। তার আগে ট্রাইবুনাল সেন্টার পরিদর্শনে গিয়েছেন বিচারপতিরা।
কমিশন সূত্রে খবর, ১৯ জন জুডিসিয়াল অফিসার থাকছেন। তাদের জন্য ৩ জন এডিএম (ADM) র্যাঙ্কের অফিসার রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে যা যা পরিকাঠামো ট্রাইব্যুনালের জন্য করা দরকার ছিল তাই ইতিমধ্যে করা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসাররা চাইলেই কাল থেকে কাজ শুরু করতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ বা অপরিবর্তিত করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে এই ট্রাইবুনাল। তবে বড় প্রশ্ন হল, ট্রাইবুনাল যদি কারও নাম বৈধ বলে ঘোষণা করে, তবে কি তাঁরা এই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে।
এই আইনি জটিলতা এবার পৌঁছেছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, সোমবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সোমবারই স্পষ্ট হবে যে, ট্রাইব্যুনালে পাশ হওয়া ভোটাররা ২০২৬-এর নির্বাচনে বুথমুখী হতে পারবেন কি না।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে আসছে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় এক ধাক্কায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়ে। এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম ছাঁটাই হয়।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটারদের নিয়ে। গত সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম শেষ পর্যন্ত ছেঁটে ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংশোধন পর্বে মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছে।
জোকায় ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। বিচারপতিরা সেন্টারটি খুঁটিয়ে দেখে দ্রুত কাজ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন সকলের নজর সোমবারের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে। ৯১ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কি ফিরে আসবে? নাকি আইনি মারপ্যাঁচে তাঁরা ব্রাত্যই থেকে যাবেন - তার উত্তর মিলবে সোমবার।