সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, জেলা হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমনকী অনেক চিকিৎসক নাকি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 20 March 2026 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল বিজেপি। তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার (BJP Candidate List 2026) আগে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, “এই সরকারটা এখনও কেন আছে?”
দুর্নীতি, তোষণ এবং অনুপ্রবেশ - এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে ফের শাসক দলকে নিশানা করেন শমীক। তাঁর কথায়, “তৃণমূল আর নেই, তৃণমূল চলে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, তোষণের রাজনীতি করতে গিয়েই রাজ্যকে আলাদা রাষ্ট্রই করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছে বাংলার মানুষ, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতার।
শমীকের আরও দাবি, আগামী ৪ মে-র পর রাজ্যবাসী স্বস্তি পাবে। সেই সময়েই পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, জেলা হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমনকী অনেক চিকিৎসক নাকি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতের দিকে পাড়ি দিচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও সরব হন শমীক। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অথচ সরকার আধুনিকীকরণের কথা বলছে। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প চালু থাকা সত্ত্বেও মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যাচ্ছেন - এটাকেই সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেন বিজেপি নেতা।
শিল্প নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, এক সময় শিল্পে এগিয়ে থাকা বাংলা এখন পিছিয়ে পড়েছে। নতুন শিল্প আনার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের লিফট দুর্ঘটনার ঘটনাও তুলে এনে রাজ্য সরকারের পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর কটাক্ষ, “যে সরকার হাসপাতালে লিফট ঠিক রাখতে পারে না, তারা রাজ্য চালাবে কীভাবে?”
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শাসক দলকে ঘিরে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিল বিজেপি।