সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজের ধর্না মঞ্চ থেকে বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলা ভাগের পক্ষে বামপন্থীরাও একসময় ভোট দিয়েছিল।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 13 March 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Elections 2026) ঘোষণার আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোরের আবহে সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (West Bengal BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। পরিবর্তন যাত্রা (Paribartan Yatra) থেকে শুরু করে প্রশাসনের ভূমিকা, গ্যাস বিতরণ থেকে বিরোধীদের ভূমিকা - একাধিক বিষয়ে সরব হন তিনি।
পরিবর্তন যাত্রা ইস্যুতে শমীক জানান, রাজ্যের ন’টি আলাদা জায়গা থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ২৩৭টি বিধানসভা এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। পথে পথে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষে এই যাত্রার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজের ধর্না মঞ্চ থেকে বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলা ভাগের পক্ষে বামপন্থীরাও একসময় ভোট দিয়েছিল। উল্লেখ্য, ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা দাবি করেছিলেন যে, ভোট কাটতে বাংলা ভাগের চেষ্টা করছে বিজেপি, যা তিনি হতে দেবেন না।
এদিকে এসআইআর ইস্যুতে শমীকের খোঁচা, ''পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল সরকার মানুষের হয়রানি করছে। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন, আশা করি তিনি অনুরাগের ছোঁয়া পেয়েছেন।'' তাঁর এও সংযোজন, ''জ্ঞানেশ কুমার দিল্লি চলে যাওয়ার পরই কিছু মোশন আনা হয়েছে। এখন বাংলায় যেটা চলছে সেটা মোশন আর ইমোশনের লড়াই।''
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শমীক বলেন, মানুষের মধ্যে এখন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে - আক্রমণ যতই হোক, শেষ পর্যন্ত বাংলায় জয় পাবে বিজেপি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মনোভাব ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। শমীকের দাবি, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক সাফল্যের ফলেই এখন জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মানুষের হয়রানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কর্মীরা জোর করে রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গকে কার্যত অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে এখন সিপিএম অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও দুর্বল।
ডিএ আন্দোলনকারীদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনকারীরা বিজেপির সমর্থক না হলেও, ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে তাদের পাশে দাঁড়াবে বিজেপি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শিক্ষিত মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই বিজেপির নেতাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে চলেছে। শমীক ভট্টাচার্যের শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকও তার উদাহরণ। প্রসঙ্গত এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত তুলোধনা করে শমীক স্পষ্টই জানিয়েছিলেন, বিজেপি আর কোনও বাহ্যিক ভরসার উপর নির্ভর করে ভোট লড়ছে না। তাঁর কথায়, এবারের ভোট তাঁরা নিজেদের কায়দায় লড়বেন!
তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, তার ভিত্তি কী - সংগঠনের শক্তি, নাকি অন্য কোনও সমীকরণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।