একদিকে যেমন তিনি কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধার অভিযোগে তৃণমূল সরকারকে ধুয়ে দিলেন, তেমনই মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমনে দিলেন বিশেষ গ্যারান্টি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর বিজেপি সরকার গড়লেই কোন পথে হাঁটবে বাংলা।
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 April 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঝোড়ো প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শনিবার রাজ্যে তাঁর তিনটি জনসভা রয়েছে, যার শুরুটা হল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে। কাটোয়ার মাঠ থেকে একদিকে যেমন তিনি কেন্দ্রীয় প্রকল্পে (Ayushman Bharat) বাধার অভিযোগে তৃণমূল সরকারকে ধুয়ে দিলেন, তেমনই মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমনে দিলেন বিশেষ গ্যারান্টি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর বিজেপি সরকার গড়লেই কোন পথে হাঁটবে বাংলা।
এ দিনের সভা থেকে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মোদী বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছতে দিচ্ছে না তৃণমূল।” বিশেষ করে ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী রাজ্য অসম বা বিহারের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ ও ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের বাধায় বাংলার কারিগর ও শিল্পীরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিনামূল্যে চিকিৎসার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়েও সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, “৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।”
তবে কাটোয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মতুয়া এবং শরণার্থী প্রসঙ্গ। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। বিশেষ করে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় ব্যাপক হারে নাম কাটা যাওয়ায় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সঙ্ঘের কার্যকরী সভাপতি এমনকি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ সামাল দিতে আসরে নামলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
সরাসরি ভোটার তালিকার নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মন্তব্য না করলেও মোদী এদিন মনে করিয়ে দেন, মতুয়ারা কারও করুণার পাত্র নন। তাঁর কথায়, “মতুয়া, নমঃশূদ্র বা যে কোনও শরণার্থী পরিবার তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। আমরা সিএএ (CAA) করেছি যাতে আপনারা পূর্ণ সুরক্ষা পান।” প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজারহাট থেকে শুরু করে বনগাঁ— সর্বত্র মতুয়া ভোটের যে চোরা স্রোত বিজেপির প্রতিকূলে বইতে শুরু করেছে, তা রুখতেই কাটোয়ার মঞ্চকে ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে উন্নয়নের গ্যারান্টি আর অন্যদিকে নাগরিকত্বের রক্ষাকবচ - এই দুই অস্ত্রেই মোদী ছাব্বিশের বৈতরণী পার করতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পর মতুয়া সমাজ শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবিরেই আস্থা রাখে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।