একেবারে প্রথম দিন থেকে যাঁরা তাঁর সহজে রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে হঠাৎ খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় না তাঁকে। তবে তৃণমূল সরকার গড়তে পারলে, মলয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 March 2026 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবার ভোট (West Bengal Election) এলেই অদ্ভূত সব কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক মলয় ঘটক (Maloy Ghatak)। গত লোকসভা ভোটেও তাই হয়েছিল। এমনকি দলের বৈঠকে তাঁকে উদ্দেশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মলয় তুমি তো বিজেপির বিরুদ্ধে কিছুই বলো না দেখি’। সেই তিনি রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটককে নিয়ে এবারও জল্পনা তৃণমূলে (TMC)। এবং এই কৌতূহলও তৈরি হয়েছে যে, মলয় এবার টিকিট পাবেন তো?
সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট (West Bengal Election 2026) ঘোষণার কথা। তার মাত্র দু’সপ্তাহ আগে বেনজির ভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দফতর চলে গেছে আইন মন্ত্রী মলয় ঘটকের। শুধু তা নয়। সদ্য রাজ্যসভার নির্বাচনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়নি। তাতেই বার্তা স্পষ্ট যে তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করা হবে। যদিও কোন আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তা নিয়ে অঙ্ক কষা চলছে। তবে এও কালীঘাটের ঘনিষ্ঠরা ধরেই নিচ্ছেন, তৃণমূল সরকার গঠন করতে পারলে পরবর্তী শ্রমমন্ত্রী হবেন ঋতব্রতই। অর্থাৎ মলয় ঘটকের আইন দফতর চলে গেছে। শ্রম দফতরের দরজার বাইরে যেন বসে রয়েছেন ঋতব্রত। এবং সেই কারণেই স্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, মলয় ঘটক শেষমেশ টিকিট পাবেন তো?
তৃণমূলের মধ্যে অনেকেরই গত ভোটের স্মৃতি এখনও টাটকা। কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, গত নির্বাচনে এভাবেই হঠাৎ অস্তাচলে গেছিলেন পূর্ণেন্দু বসু। ২০১১ সালে বাংলায় তৃণমূল সরকার গঠনের পর রাজ্যের শ্রম মন্ত্রী ছিলেন পূর্ণেন্দু। পরে তাঁকে রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, পূর্ণেন্দু বসুকে এবার প্রার্থী করা গেল না। রাজ্যে বিধান পরিষদ তৈরি করা হবে। সেখানে সদস্য করা হবে তাঁকে। সেই বিধান পরিষদ এখনও হয়নি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিস্মৃতির অতলে প্রায় তলিয়ে গেছেন পূর্ণেন্দু। কৌতূহল হল, এবার কি তবে মলয়ের পালা?
তৃণমূলের এক শীর্ষ সারির নেতার কথায়, এবার যে কারণে মলয় ঘটকের আইন দফতর চলে গেছে তা গুরুতর। রাজ্যে বিভিন্ন বার কাউন্সিলে নির্বাচন চলছে। জলপাইগুড়ি আদালতে বার কাউন্সিলের নির্বাচনে শাসক দলের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গোষ্ঠীকে মলয় হাওয়া দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তার প্রমাণও দল পেয়েছে। তার পরই তাঁকে দফতরের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তাৎপর্যপূর্ণ হল, সবটাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোচরে ছিল। অর্থাৎ দিদি-অভিষেক তালমিল করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের ওই নেতার কথায়, মলয়কে ফের টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে অভিষেকের যে আগ্রহ রয়েছে তা মনে হচ্ছে না। কারণ, এ সব ব্যাপারে তাঁর একটা স্পষ্ট অবস্খান রয়েছে। তা হল, এক শ্রেণির নেতা কেন দিনের পর দিন এক বা একাধিক দফতর আগলে থাকবে? কেন বদল হবে না? তবে শেষমেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো এবারও মলয় ঘটককে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কারণ, একেবারে প্রথম দিন থেকে যাঁরা তাঁর সহজে রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে হঠাৎ খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় না তাঁকে। তবে তৃণমূল সরকার গড়তে পারলে, মলয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।