সভা থেকে ওয়েইসি অতীতের ভোটের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কখনও কংগ্রেস, কখনও বামফ্রন্ট, আবার গত ১৫ বছর তৃণমূলকে সমর্থন করেও সংখ্যালঘুরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি।

হুমায়ুন কবীর এবং আসাউদ্দিন ওয়েইসি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) ও এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েইসির (Asauddin Owaisi) জোট এবার মুর্শিদাবাদে প্রথম শক্তিপ্রদর্শন করল।
গত ২৫ মার্চ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার পর বুধবার নওদার ডুবতলা ময়দানে যৌথ সভায় মঞ্চ ভাগ করে নিলেন দুই নেতা। সেখান থেকেই সরাসরি আক্রমণের নিশানা করা হল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি - একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi)।
সভা থেকে ওয়েইসি অতীতের ভোটের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কখনও কংগ্রেস, কখনও বামফ্রন্ট, আবার গত ১৫ বছর তৃণমূলকে সমর্থন করেও সংখ্যালঘুরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। তাঁর কথায়, “আমরা শুধু ভোট দেওয়ার যন্ত্র হয়ে গিয়েছিলাম। এবার নিজেদের লোক হুমায়ুন কবীরকে জেতাতে হবে, যাতে নিজের সমাজের নেতৃত্ব তৈরি হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই জোটের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি আসন জেতা নয়, বরং রাজ্যের মুসলিম সমাজের ভিতর থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলা। ওয়েইসির কথায়, “বাংলার মুসলমানরাই বদল আনবে, আমরা আপনাদের নেতা বানাতে চাই।”
তৃণমূলের ‘ভোট কাটার’ অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতেও পিছপা হননি ওয়েইসি। তিনি বলেন, “তৃণমূল বলছে আমরা ভোট কাটতে এসেছি। কিন্তু ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না—গুজরাত দাঙ্গার সময় মমতা বাজপেয়ীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আবার ২০০৫ সালে অনুপ্রবেশ নিয়ে যে কথা তিনি বলেছিলেন, আজ সেই একই সুর মোদীর মুখে শোনা যাচ্ছে।”
এখানেই থেমে না থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন, আসন্ন ভোটে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে 'মমতা ও মোদীর ভয়' থেকে মুক্ত হওয়া যায়। তাঁর কথায়, ২৩ তারিখের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে 'কোল্ড স্টোরেজে' পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভা থেকে ওয়েইসি স্পষ্ট করে দেন, এই জোট কেবল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ও এআইএমআইএম একসঙ্গে লড়াই করবে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, মুর্শিদাবাদের এই সভা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জোটের উপস্থিতি ও তাদের আগ্রাসী অবস্থান স্পষ্ট করে দিল। নির্বাচনের আগে এই সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।