বুধবার বড়ঞার নির্বাচনী জনসভায় ফের সেই চেনা মেজাজেই নজর কাড়লেন তৃণমূল নেত্রী। হাতিয়ার করলেন মা-বোনেদের চিরন্তন ‘আঁচলে বাঁধা’ সঞ্চয়কে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 1 April 2026 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতির ময়দানে তিনি জননেত্রী, কিন্তু মঞ্চে দাঁড়ালে অনায়াসেই হয়ে ওঠেন ঘরের মেয়ে। মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জুড়ি মেলা ভার, এ কথা অতি বড় শত্রুও একবাক্যে স্বীকার করেন। বুধবার বড়ঞার নির্বাচনী জনসভায় ফের সেই চেনা মেজাজেই নজর কাড়লেন তৃণমূল নেত্রী। হাতিয়ার করলেন মা-বোনেদের চিরন্তন ‘আঁচলে বাঁধা’ সঞ্চয়কে।
নির্বাচনী আবহে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। মমতার অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে মেয়েদের নামই তালিকায় বেশি কাটা হয়েছে। সেই ক্ষোভকে মলম দিতেই এদিন বড়ঞার সভা থেকে সরাসরি মহিলাদের আবেগকে ছুঁতে চাইলেন তিনি। তবে ভাষণে তথ্যের ভার নয়, বরং ঘরোয়া গল্পের মোড়ক ছিল বিস্তর।
স্মৃতির সরণি বেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যান ২০১৬-র নভেম্বর সন্ধ্যায়। নোটবন্দির সময় যখন দিশেহারা দেশ, সেই সময়কার এক অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে মমতা বলেন, ‘‘নোটবন্দির সময় বলেছিলাম মানুষের ক্ষতি হবে। একদিন অভিষেকের মা ছুটে এসে আমায় বলল, দিদি ৫০০ টাকা দেবে? সব টাকা তো জমা দিয়ে দিতে হবে, বাজার করব কী করে?’’ মোদী সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ঘা যে আসলে বাংলার হেঁশেলে গিয়ে লেগেছিল, এদিন তা আরও একবার মনে করিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, মা-বোনেদের দুঃসময়ের পুঁজি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিকল্পনা করেছিলেন।
শুধু অভিষেকের মায়ের উদাহরণই নয়। মমতা জানান, "একটি মেয়ে সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। তার বাড়ির একজন আমাদের কাছে থাকে। সে-ও বলেছিল, ১০০টা টাকা দেবে? আমি সে দিন ঠিক করেছিলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করব। সেই মেয়েই আমায় জানায়, তার নিজেরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে। তাতে সে পাঁচ টাকা, দশ টাকা জমা করে। কালীপুজোর সময় সেই টাকা থেকেই একটা কিছু সে তার মাকে দেয়।" এই সহজ উদাহরণের মাধ্যমেই তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, সাধারণ ঘরের মেয়েদের কাছে মাসিক পাঁচশো-হাজার টাকার সঞ্চয় ঠিক কতটা মহার্ঘ।
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন মহিলাদের নাম বেশি 'কাটা' যাচ্ছে, তখন এই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakkhir Bhandar) প্রকল্প যে তাঁর তুরুপের তাস হতে চলেছে, সেটা মমতার শুধু আজকের জনসভাই নয়, গত সমস্ত সভাতেই তাঁর শরীরী ভাষায় স্পষ্ট হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই প্রকল্পের ভাতা একলাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। মহিলারা এখন মাসে ১০০০ টাকার বদলে ১৫০০ এবং তফসিলি জাতি-উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০-র বদলে ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। রাজ্য বাজেটে এই খাতেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে নোটবন্দির সময়কার ‘আর্থিক আতঙ্ক’ আর অন্যদিকে বর্ধিত ভাতার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, এই দুইয়ের তুলনামূলক ছবিটা অত্যন্ত সুচতুরভাবে জনমানসে গেঁথে দিতে চাইছেন মমতা। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে মেয়েদের নাম যখন বেশি করে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় মা-বোনেদের ঘরের মানুষের ভরসা আদায় করাই এখন তৃণমূল নেত্রীর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়ঞার সভা থেকে সেই লক্ষ্যেই আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি।