বুধবার কমিশনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই রদবদলের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 19 March 2026 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar) পুরনো সব ছক ভেঙে দিতে পারে - এমনটা আগেই লিখেছে দ্য ওয়াল। প্রশাসনিক রদবদল যে দিকে এগোচ্ছে তাতে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বুধবার অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম বদল করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিংয়ের পর কমিশন ৬ জন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজার্ভার হিসাবে পাঠিয়ে দিল।
পাঁচজন ডিইও প্রীতি গোয়েল, রানি আয়েশা, অরবিন্দ কুমার মিনা, সিয়াদ এন এবং শামা পারভিন সহ পঞ্চায়েত সচিব উল্গানাথানকে ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে আইপিএস-দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, আইএএস বা ডিইও-দের ক্ষেত্রেও তাই হল। মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতে হবে এই আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ, দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ, থাকতে হবে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিংয়ের দু-দিন আগে।
পনেরো জন আইএএস অফিসারকে অবজার্ভার হিসাবে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য দিল্লিতে যেতে হয়েছিল। এর মধ্যে বাকি যাঁদের এখনও নির্দেশ আসেনি তাঁদেরও বদল হতে পারে অনুমান।
বুধবার কমিশনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই রদবদলের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।
রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি, ডিএম থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Gyanesh Kumar) একাধিক চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনও লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল, চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরও বদল করেছে কমিশন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে দ্বিতীয় যে চিঠি লিখেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যেভাবে গণ-বদল এবং আধিকারিকদের সরানোর প্রক্রিয়া চলছে, তা কেবল একপাক্ষিকই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এক গুরুতর আঘাত।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইদানীংকালে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি সৌজন্যের সমস্ত সীমা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ধরনের পদক্ষেপ কমিশন নিচ্ছে, তাতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের ছায়া দেখছেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, “কমিশন বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।” গত সোমবারও তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) একটি চিঠি দিয়েছিলেন। যেখানে তিনি কমিশনের ওই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিযোগ করেছিলেন।