বিশেষ করে বিএলও রক্ষা কমিটি বা বিএলও রক্ষা মঞ্চের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। সিইও দফতর সূত্রে স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে যদি দফতর ঘেরাও বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে মালদহের কালিয়াচকে ঘটে যাওয়া বিচারক ঘেরাও-কাণ্ড (Maldah Kaliachak Incident) থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এমনকি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ করে বিএলও রক্ষা কমিটি বা বিএলও রক্ষা মঞ্চের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। সিইও দফতর সূত্রে স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে যদি দফতর ঘেরাও বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। সাসপেনশনের মতো পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের তরফে।
বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। প্রায় রাত পর্যন্ত তাঁদের আটক করে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান (ISF Candidate) আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
কমিশনও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ। বৃহস্পতিবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, সিইও এবং সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে মালদহের জেলাশাসক (ডিএম) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) সরাসরি বিঁধেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দুপুরের পর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটা এলাকায় অশান্তি চলল, অথচ সেখানে কোনও সিনিয়র আধিকারিক ছিলেন না কেন? এটা কী করে সম্ভব?” মালদহের এসপি-কে কার্যত ধমক দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানতে চান, কেন এত দায়সারা মনোভাব দেখানো হয়েছে। এমনকি রাজ্যের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার উদ্দেশেও তাঁর প্রশ্ন ছিল, আগে থেকে কেন কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবারই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সিবিআই-এনআইএ তদন্ত করতে পারে। তারপরই কমিশন সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।