বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, জিডিপি, সিইও এবং সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচকে (Malda Kaliachak) বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় কড়া ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, সিইও এবং সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, মালদহের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হবে।
এদিনের বৈঠকে মালদহের জেলাশাসক (ডিএম) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) সরাসরি বিঁধেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দুপুরের পর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটা এলাকায় অশান্তি চলল, অথচ সেখানে কোনও সিনিয়র আধিকারিক ছিলেন না কেন? এটা কী করে সম্ভব?” মালদহের এসপি-কে কার্যত ধমক দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানতে চান, কেন এত দায়সারা মনোভাব দেখানো হয়েছে। এমনকি রাজ্যের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার উদ্দেশেও তাঁর প্রশ্ন ছিল, আগে থেকে কেন কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছ’টি মূল লক্ষ্য আগেই জানিয়েছিল কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার এদিন আধিকারিকদের সেই লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছে,
১. বুথ দখল পুরোপুরি রোধ করতে হবে
২. ভুয়ো ভোট প্রতিরোধ করতে হবে।
৩. অশান্তিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাই দায়িত্ব।
৪. কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
৫. ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৬. রাস্তা আটকানো বা ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
বৈঠকে ভিআইপির (রাজনৈতিক নেতা হোক বা তার বাইরের কেউ) নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন সিইসি। তিনি সাফ জানান, “নিরাপত্তার নামে গুন্ডা-মস্তানরা যেন সুবিধা না পায়। যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন, রিভিউ করে তাঁদেরই নিরাপত্তা দিতে হবে।” বিশেষ করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক বা ‘জুডিশিয়াল অফিসার’দের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কর্মরত এই আধিকারিকদের ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
মালদহের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের এবং গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বৈঠকে মুখ্যসচিব দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল উপস্থিত থাকলেও, গোটা বৈঠক জুড়েই জ্ঞানেশ কুমার ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। তাঁর শেষ কথা ছিল একটাই, “আমি আবারও বলছি, মালদহের মতো ঘটনা যেন কোথাও না হয়। যদি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাউকে ছাড়া হবে না। আমাদের অ্যাকশন চাই।”
এখানে বলে রাখা দরকার, এই প্রতিবেদন লেখাকালীন মালদহে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ১৭ জন অভিযুক্তকে। তাঁদের সকলকেই বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়েছে মালদহ জেলা আদালতে।