প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের উপর হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা (West Bengal SIR) চলাকালীন বিচারকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on Kaliachak incident)। এই ঘটনাকে আদালতের উপরই হামলা বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ - কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতেই তুলে দিতে হবে’।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের উপর হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।
মালদহের একটি গ্রামে SIR-এর কাজে নিযুক্ত ৭ বিচারককে বুধবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে ফেরানোর সময়ে গাড়ির উপর ইট পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ৭ জন বিচারকের মধ্যে মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের চিঠির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ওই বিচারকদের খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার পর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে তাঁদের মুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে সেখানেই শেষ নয়—ফেরার পথে বিচারকদের গাড়িতে পাথর ও বাঁশ দিয়ে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এটি প্রশাসনের ‘চরম ব্যর্থতা’। এমনকি মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলেও আদালত উল্লেখ করে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, এই ঘটনা ‘কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয়’এবং এটি কার্যত সুপ্রিম কোর্টের উপরই আক্রমণের সমান, কারণ বিচারকরা আদালতের নির্দেশেই কাজ করছিলেন। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলা হয়। আদালত ইঙ্গিত দেয়, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা -যাঁরা বিচারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা আদালতের ‘প্রসারিত হাত’। তাঁদের ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়া মানে বিচারব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করা। আর সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতেই প্রস্তুত সর্বোচ্চ আদালত।
সব মিলিয়ে, বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে। এখন নজর থাকবে—কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে কী উঠে আসে এবং দায় নির্ধারণে কতটা এগোয় তদন্ত।