যে নথি আগে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সামনে পেশ করা হয়নি, তা নতুন করে গ্রহণ করা যাবে না। কোনও নথি গ্রহণের আগে তার সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে এসআইআর (West Bengal SIR Supreme Court Hearing) সংক্রান্ত মামলায় ফের শুনানি হল সুপ্রিম কোর্টে (SIR Supreme Court)। বুধবারের এই শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানাল, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির আশ্বাসে তারা সন্তুষ্ট। আদালতের মতে, ৭ এপ্রিলের মধ্যেই সমস্ত আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন বলেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে বিপুল সংখ্যক আবেদন ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রায় ৪৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালত আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ফর্ম-৬ নিয়ে ডামাডোল
ফর্ম-৬ সংক্রান্ত বিতর্ক এই শুনানিতে উঠে আসে। রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ জমা পড়ছে, এমনকি এক ব্যক্তি একদিনে প্রায় ৩০ হাজার আবেদন জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। এর উত্তরে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত এই আবেদন জমা দেওয়া যায় এবং যে কেউ তা করতে পারেন। সমস্ত আবেদন যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও আদালতকে জানানো হয়।
এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, প্রায় প্রতিবারই ওঠে। নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ নিয়ে আপত্তি
শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বুধবারই সেই প্রশিক্ষণ শুরু হবে এবং পরদিন থেকেই ট্রাইব্যুনালের কাজ চালু হবে বলে তিনি আদালতে জানান। তবে এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়েই আপত্তি তোলে রাজ্য।
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কীভাবে একতরফাভাবে প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এই আপত্তি খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়ায় সমস্যা কোথায়, তা পরিষ্কার নয়। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এই প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আদালতের কোনও সংশয় নেই, যদিও এই ধরনের কাজ তাঁদের কাছে নতুন।
ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ
এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালের জন্য কিছু নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ, অনলাইন ও অফলাইন - দুই ধরনের আপিল সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে প্রাক্তন বিচারপতিদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। পাশাপাশি, যে নথি আগে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সামনে পেশ করা হয়নি, তা নতুন করে গ্রহণ করা যাবে না। কোনও নথি গ্রহণের আগে তার সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনের শুনানির শেষে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।