উপযুক্ত নথি রয়েছে এমন ডিলিটেড ভোটারদের কী হবে? কমিশন জানিয়েছিল, অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। অফলাইনের ক্ষেত্রে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল। তার আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকার (West Bengal SIR Final Voter List) পর দুটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তথ্য বলছে, খসড়া তালিকার তুলনায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ গেছে চূড়ান্ত তালিকায়। এখন তার সঙ্গে আরও প্রায় ১৪ লক্ষ জুড়লে সংখ্যাটা ৭৭ লক্ষ ছাপিয়ে যাচ্ছে।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। কারণ প্রতিকারের জন্য ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। যদিও চিন্তার বিষয় এখানেই। ট্রাইব্যুনাল (West Bengal SIR Tribunal) গঠন করা হলেও তার কাজ আদতে কোথায় হবে, সেই জায়গাই এখনও পর্যন্ত ঠিক করে উঠতে পারেনি কমিশন। তাই ট্রাইব্যুনালের কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
কমিশন সূত্রে খবর, নিউটাউনে জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি, হিডকোর অফিস এবং সল্টলেক স্টেডিয়াম - এই তিনটি জায়গা দেখতে গেছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। কিন্তু কোনও জায়গাই তাঁদের পছন্দ হয়নি। তাই এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে জানা গেছে, জোকাতে একটি কেন্দ্রীয় সরকারের অফিস রয়েছে, ওই অফিসে প্রাথমিকভাবে পছন্দ হয়েছে জুডিশিয়াল অফিসারদের। যদিও সেটি নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এখন প্রশ্ন, উপযুক্ত নথি রয়েছে এমন ডিলিটেড ভোটারদের কী হবে? কমিশন জানিয়েছিল, অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। অফলাইনের ক্ষেত্রে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে ইসিআই নেট অ্যাপ বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে যথাযোগ্য নথিপত্র দিয়ে আপিল করা সম্ভব। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের মাথায় থাকছেন এক জন করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কিন্তু সঠিক সময় এর কাজই যদি শুরু না হয় তাহলে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে কয়েক লক্ষ ভোটারের।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ মেনে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে হবে।
২৩ মার্চ প্রকাশিত তালিকার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা দাঁড়াচ্ছে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে শুক্রবারের তালিকার ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ যে নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁরা ১১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হতে আর মাত্র ২৬ দিন বাকি। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে, চলতি মাসের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের জন্য জায়গা চূড়ান্ত করে নেওয়া হল তাহলে কাজ পুরোদমে শুরু করতে আরও ৬-৭ দিন লেগে যাবে। সেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা ভোটারদের নথি যাচাই করে তা অতিরিক্তি তালিকা তুলতে তুলতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে কমিশনের। আর ততদিনে প্রথম দফার ভোট হয়ে যাবে। এতএব, বহু সংখ্যক ভোটার ভোটদান করতে পারবেন না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।