আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে এই দুই জেলায়। তার আগেই ওই অঞ্চলের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সশরীরে হাজির হচ্ছেন সিইও। তবে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর তাঁর এই সফর ঘিরে বাড়তি রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
.jpeg.webp)
মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 10 April 2026 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) সংঘাতের আবহ যেন কিছুতেই কমছে না। লড়াইটা শুধু যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অভিযোগের তির খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO Manoj Agarwal) দিকেও। গত শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম সফরে (CEO Nandigram) গিয়েছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। সেই সফর ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, এক বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঘুরেছেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফের জেলা সফরে বেরোচ্ছেন রাজ্যের এই শীর্ষ নির্বাচনী আধিকারিক।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের পর এবার বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ পরিদর্শনে যাচ্ছেন মনোজ আগরওয়াল। শুক্রবারই তাঁর বীরভূমে পৌঁছনোর কথা। শনিবার তিনি যাবেন মুর্শিদাবাদে। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে এই দুই জেলায়। তার আগেই ওই অঞ্চলের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সশরীরে হাজির হচ্ছেন সিইও। তবে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর তাঁর এই সফর ঘিরে বাড়তি রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত মনোজ আগরওয়ালের নন্দীগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, গত ৫ এপ্রিল নন্দীগ্রামে যাওয়ার পর মনোজবাবু স্থানীয় এক বিজেপি নেতাকে সঙ্গী করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। এমনকী, সেই নেতার উপস্থিতিতেই সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের মতামত নেন। এই ঘটনার একটি ছবিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির কল্যাণপুর অঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার মহাপাত্রই মনোজ আগরওয়ালকে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। একজন পদস্থ নির্বাচনী আধিকারিক কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পদাধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পারেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের এই ধরণের আচরণ নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে সম্পূর্ণ ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার এমন অপব্যবহার নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তৃণমূলের অভিযোগের মূল সুর হল, সিইও-র এই ভূমিকা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামান্তর। এমনটা চলতে থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছে শাসক দল। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এই সফরকে একান্তই প্রশাসনিক ও প্রস্তুতিমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শাসক দলের পাল্টা তোপে সিইও-র বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ সফর ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের আগে এই দুই স্পর্শকাতর জেলায় তাঁর গতিবিধি এবং অবস্থান যে আতসকাচের তলায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।