১৯৯৬ সালের পর ২০২৬। ৩০ বছর পর বহরমপুর বিধানসভা (Baharampur Assembly) আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তথা সিইসি (CEC) যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবু বহরমপুরে দেওয়াল লিখন যেন স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে।

শেষ আপডেট: 17 March 2026 15:28
১৯৯৬ সালের পর ২০২৬। ৩০ বছর পর বহরমপুর বিধানসভা (Baharampur Assembly) আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তথা সিইসি (CEC) যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবু বহরমপুরে দেওয়াল লিখন যেন স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে।
গত তিন দশকে বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে অধীরবাবুর যাত্রা ছিল এক কথায় অনবদ্য। পরিবারতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে উঠে আসা নয়। রাজনীতিতে কোনও গডফাদারও ছিল না। প্রায় একার লড়াইয়ে লোকসভায় পরপর পাঁচ বারের সাংসদ। সনিয়া গান্ধীর আগ্রহে কেন্দ্রে রেল প্রতিমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা ও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান। গত লোকসভা ভোটে অবশ্য বহরমপুরে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি।
প্রশ্ন উঠতে পারে, জাতীয় রাজনীতির সেই চেনা পরিসর ছেড়ে ফের বহরমপুরে ফিরে আসা কেন?
মঙ্গলবার দুপুরে এ প্রশ্ন করা হলে অধীর চৌধুরী বলেন, “এআইসিসি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা না করলে এ ব্যাপারে কিছু বলা ঠিক নয়। প্রথাগত ভাবে সেটা সমীচীনও হবে না।”
জানিয়ে রাখা ভাল, কংগ্রেস সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটিতে অধীর চৌধুরীও সদস্য। অসমের প্রার্থী নির্বাচনের বৈঠকেও তিনি ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের প্রার্থী নির্বাচনের বৈঠকেও স্বাভাবিক ভাবে তাঁর থাকার কথা।
দ্য ওয়ালের প্রশ্নের জবাবে এদিন অধীরবাবু পাল্টা বলেন, “বহরমপুর নয় কেন? এই বহরমপুরই তো আমার ভদ্রাসন। ১৯৯৬ সালে শেষবার বহরমপুর বিধানসভা থেকে প্রার্থী হয়েছিলাম। ৩ বছর বিধায়ক ছিলাম। ৯৯ সালে লোকসভা ভোটে জিতে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলাম। কিন্তু বহরমপুর তো কখনও ছাড়িনি। আমার দিল্লি যাওয়ার পথ বহরমপুর হয়েই তো গেছে।”
৯৯ সালে লোকসভায় সাংসদ হয়েছিলেন অধীর। দিল্লির কংগ্রেসিরা জানেন, পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে তিনি একা লোকসভায় যাননি। জঙ্গিপুর লোকসভা থেকে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জয় বা মুর্শিদাবাদ লোকসভায় মান্নান হোসেনের জয়ের নেপথ্য নায়কও ছিলেন অধীরই। সেই সময় থেকেই সনিয়া গান্ধীর গুডবুকে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেন এই দাপুটে কংগ্রেস নেতা। দলের ঘরোয়া আড্ডায় অধীরকে ‘রবিনহুড’ বলতেন সনিয়া। এখনও বলেন।
বিধানসভায় তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধীর চৌধুরী বলেন, “কেন এই ভোটে প্রার্থী হতে রাজি হচ্ছি তার কারণ একটাই। দল চাইছে আমি প্রার্থী হই। আমি পার্টির একনিষ্ঠ সৈনিক।”
একদা মুর্শিদাবাদের কথা উঠলেই অধীর চৌধুরীর নাম ভেসে উঠত। এখনও অনেকের কাছে সেটাই। বাম জমানায় প্রতি বছর সেরা পুরসভার পুরস্কার পেত বহরমপুর পুরসভা। এহেন অধীর চৌধুরীর চব্বিশের লোকসভায় পরাস্ত হওয়াটা অনেকের কাছে ছিল বিস্ময়ের।
২০২৪ সালের আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও অধীরকে হারানোর জন্য কোনও ত্রুটি রাখেনি তৃণমূল। সেই সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীর ঘনিষ্ঠ তৎকালীন কান্দির কংগ্রেস বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে বহরমপুরে প্রার্থী করে অধীরকে হারানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন শুভেন্দু। কলকাতা থেকেও কয়েকজন কর্মী নেতাকে সেবার বহরমপুরে স্টেশনড করে রেখেছিলেন তিনি। তার পরেও নব্বই হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতে যান অধীরবাবু। কিন্তু চব্বিশের ভোটের মুর্শিদাবাদের চরম ধর্মীয় মেরুকরণের আবহে ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে প্রার্থী করে চমক দেয় তৃণমূল।
ঘটনা হল, লোকসভা ভোটের পর ইউসুফ পাঠানকে বহরমপুরের বিশেষ দেখা যায় না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে বহরমপুর লোকসভা এলাকা তো বটেই গোটা মুর্শিদাবাদ জুড়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যেও অনেকের খেদ রয়েছে যে, অধীর চৌধুরীকে ভোট না দিয়ে ঠিক হয়নি। অর্থাৎ মুর্শিদাবাদ জুড়ে অধীর চৌধুরীর জন্য এ বছর সহানুভূতি ও সমর্থনের একটা চোরাস্রোত রয়েছে বলেই তাঁদের দাবি।
মুর্শিদাবাদে অধীর ঘনিষ্ঠরাও চাইছিলেন, বিধানসভা ভোটে বহরমপুরে অধীরবাবু প্রার্থী হোন। তিনি প্রার্থী হলে সেটা শুধু বহরমপুর আসনের জন্য কার্যকরী হবে না, গোটা মুর্শিদাবাদে তাঁর প্রভাব ফেলবে।
বাম জমানায় সোমেন-সুব্রতদের তরমুজ কংগ্রেস বলে খোঁচা দিত কেউ কেই। কিন্তু আপসহীন নেতা বলে পরিচিত ছিলেন অধীর। তৃণমূল জমানাতেও তাঁর সেই ইমেজ ও বিশ্বাসযোগ্যতায় কোনও ভাটা পড়েনি বলে মনে করেন রাজ্য রাজনীতির অধিকাংশ নেতা নেত্রীরা। এমনকি তৃণমূলের মধ্যেও অধীর চৌধুরীর শুভাকাঙ্ক্ষী কম নেই। বিশেষ করে যাঁরা পুরনো কংগ্রেসি ছিলেন।
এদিন দ্য ওয়ালকে অধীর বলেন, “আমার অ্যাজেন্ডা কারও কাছে গোপন নয়। বাংলায় চরম অরাজক শাসন চলছে। এর পরিবর্তন দরকার। আমি সেই পরিবর্তনের জন্যই লড়ছি।”
সূত্রের দাবি, বহরমপুরে অধীর চৌধুরী একা যে প্রার্থী হচ্ছে না তা নয়, মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভিন্ন আসনে কংগ্রেস প্রার্থী কারা হবেন তাও ঠিক করছেন তিনিই।