পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধলেন মিম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েইসি। বুধবার যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জোট প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি।
.jpg.webp)
হুমায়ুন-ওয়েইসি জোট
শেষ আপডেট: 25 March 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে কলকাতা সফরে মিম নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। বুধবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে 'বড় ভাই' সম্বোধন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। আসন্ন ভোটে 'হুইসল' জোটের রণকৌশল কী হবে, তারও একটা ছবি তুলে ধরলেন দু'জনে।
২৯৪ আসনের মধ্যে আজ বিকেলে ৪টে নাগাদ ১৯০-১৯২ আসনে প্রার্থী (Candidate List) ঘোষণা করবেন নয়া জোট। বিশেষ গুরুত্ব মুর্শিদাবাদকে, ১ এপ্রিল বহরমপুর থেকে শুরু হবে প্রচার, থাকবেন ওয়েইসি নিজেও, জানালেন হুমায়ুন। নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় অন্তত ২০টি সভা করবেন মিম প্রধান।
"২০২৬ -এ যে জোট আমাদের হয়েছে, তা আর ভাঙবে না, বড় ভাই আমাদের অভিভাবক, তাঁর দেখানো পথেই এগিয়ে যাব। আগামী দিনে একসঙ্গে লোকসভাতেও লড়াই করব।,' বিধানসভা ভোটের আবহে 'বাঁধন' শক্ত করে রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন হুমায়ুন। একই সুর শোনা গেল ওয়েইসির গলায়েও।
হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ বিতর্ক!
বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণের ঘোষণার পরই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। এরপরই নিজের দল গঠন করেছেন তিনি। এনিয়ে ওয়েইসির অভিযোগ,'বাংলায় সবচেয়ে বড় ইস্যু সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়নে বাধা, যেটা আমাদের এই ভোটে অন্যতম প্রধান বক্তব্য।'
বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ের প্রসঙ্গ তুলে নিজের সেইসময়ের মন্তব্য আরও একবার মনে করিয়ে দেন তিনি। ওয়েইসি দাবি করেছিলেন, 'বিশ্বাসের উপর ভর করে রায় দেওয়া হয়েছিল।' আজও সেই দাবিতেই অনড় রয়েছেন তিনি।
বাংলায় মুসলিম জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সামনে এনে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। তার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম রয়েছে। তার মধ্যে সরকারি কর্মচারী আছেন কজন? মাত্র ৭ শতাংশ। কলেজের গণ্ডি টপকাতে পারেনি অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কেবল ভোটের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়কে। কিন্তু কোনও সুবিধা তারা পায় না।
কল্যাণকে পাল্টা জবাব
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মিমকে (AIMIM) 'বিজেপির বি টিম' বলে কটাক্ষ করেছেন। এর পাল্টা জবাবে ওয়েইসি ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুললেন তিনি। 'গুজরাত যখন জ্বলছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কার সঙ্গে বসে ধোকলা খাচ্ছিলেন' এই প্রশ্ন ছুঁড়ে স্পষ্ট করে দেন, "আমরা টিম এম, সকল মুসলিমরা আমাদের দলে।" পাশাপাশি, বাংলায় বিজেপির মাথা তুলে দাঁড়ানোর পিছনে তৃণমূলের হাত আছে বলেই দাবি করেন তিনি।
ক'টি আসনে লড়বে মিম
হুমায়ুনের সঙ্গে জোট বাঁধলেও এখনও ক'টি বিধানসভা কেন্দ্রে মিম (AIMIM) প্রার্থী দেবে, তা খোলসা করা হয়নি। এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে আসাউদ্দিন ওয়েইসি জানান, 'খুব বেশি চাই না আমাদের। আমার পার্টনারকে সঙ্গ দিতে এসেছি। এখনও দু'টি আসনে কথা চলছে। আগামিকালই ঘোষণা করা হবে।'
তৃণমূলের বিরুদ্ধেই লড়াই!
"আমরা আমাদের কাজ করব। রণকৌশল অবশ্যই থাকবে। তৃণমূলকে ছত্রভঙ্গ করাই আমাদের লক্ষ্য।' ভোটের আবহে চ্যালেঞ্জ নিলেন খোদ ওয়েইসিই।
এসআইআর নিয়ে তৃণমূলকেই নিশানা
বাংলায় এসআইআরে নাম বাদ নিয়ে বিজেপি-কমিশনকে প্রায়ই তুলোধোনা করে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, 'ইচ্ছাকৃত মুসলিমদেরই নাম বাদ কিংবা বিচারাধীন রয়েছে।' তবে ওয়েইসির অভিযোগ এর জন্য দায়ী রাজ্য সরকার।
মুসলিম ভোটের জন্যই জোট!
'মুসলিম ভোট টানতেই কি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন ওয়েইসি?' এই প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুনের সঙ্গে জোট নিয়ে মিম প্রধান স্পষ্ট করলেন, "রাজ্যের মুসলিমদের উন্নয়ন, সংখ্যালঘুদের শোষণ রুখতে, কর্মস্থানে এবং সমাজে সমান অধিকারের জন্যই আমরা একসঙ্গে হয়েছি।"
ভবানীপুরে কি প্রার্থী দেবে মিম-এজেইউপি জোট?
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্র নিয়ে কী ভাবছেন ওয়েইসি-হুমায়ুন? যদিও এর উত্তর আগামিকাল সকালের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে জানালেন মিম নেতা।
নওশাদের সঙ্গে জোট নয় কেন?
"আইএসএফের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু বেশিদূর এগোনো যায়নি।" নওশাদের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে জানালেন ওয়েইসি। একইসঙ্গে এও বলেন, "হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবদিক বুঝেই দু'জনে একসঙ্গে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে ওয়েইসির বার্তা, ভয় পেয়ে ভোট দিতে যাবেন না। একবার ভরসা করে এই জোটকে ভোট দিন। সুস্ঠু ভোট সকলের অধিকার।