এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরপরই এই ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যান নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং দ্রৌপদী মুর্মু
শেষ আপডেট: 25 March 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহেও রাষ্ট্রপতি-বিতর্ক কাটছে না বাংলার শাসক দলের। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Droupadi Murmu) সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে বারবার আবেদন করেও সময় পেল না তৃণমূল কংগ্রেস (TMC West Bengal)। টানা তৃতীয়বার রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারবেন না বলেই জানাল রাষ্ট্রপতি ভবন।
গত ৯ মার্চ প্রথমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানায় তৃণমূল। কিন্তু ১১ মার্চ জানিয়ে দেওয়া হয়, ব্যস্ততার কারণে সেই সময় সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। এরপর ফের ১৬ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে সময় চেয়ে আবেদন জানানো হলেও ২২ মার্চ আবারও একই কারণ দেখিয়ে তা খারিজ করে দেওয়া হয়।
এরপর ২৩ মার্চ পুনরায় চিঠি পাঠিয়ে ২৪ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে সাক্ষাতের আবেদন জানায় তৃণমূল। কিন্তু এদিনও রাইসিনা হিলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সময়ের অভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এখন দেখা করতে পারবেন না।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরপরই এই ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যান নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
গত ৭ মার্চ শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক জনজাতি সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেই সফরে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলায় জনজাতি সমাজের উন্নয়ন নিয়েও মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির সেই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরকার আদিবাসী উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা সরাসরি জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বারবার আবেদন সত্ত্বেও সাক্ষাৎ না মেলায় এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়িতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি নিজেও বাংলার মেয়ে হলেও অনেক সময় বাংলায় আসতে অসুবিধা হয় বলে তাঁর মনে হয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেন, আয়োজনে যথেষ্ট পরিসর নেই বলে জানানো হলেও বাস্তবে অনেক বেশি মানুষের জায়গা হওয়ার মতো পরিকাঠামো সেখানে ছিল। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তাঁর প্রতি রাগের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই।
এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।