সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট, এই আর্থিক অনুদান এককালীন নয়। রবি ও খরিফ - দুই কৃষি মরসুমে সমানভাবে ২ হাজার টাকা করে মোট দু’টি কিস্তিতে অর্থ দেওয়া হবে। নির্ধারিত অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। প্রশাসনের দাবি, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা কার্যকর হতে শুরু করবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 February 2026 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারের রাজ্য বাজেটে (State Budget 2026) কৃষিক্ষেত্রকে ঘিরে ঘোষণার মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের (Landless Farmers Scheme) জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। যাঁদের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি নেই, কিন্তু অন্যের জমিতে মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেই সংসার চালান, তাঁদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার (State Govt)। শনিবার কৃষি দফতরের তরফে এ সংক্রান্ত বিশদ নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট, এই আর্থিক অনুদান এককালীন নয়। রবি ও খরিফ - দুই কৃষি মরসুমে সমানভাবে ২ হাজার টাকা করে মোট দু’টি কিস্তিতে অর্থ দেওয়া হবে। নির্ধারিত অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। প্রশাসনের দাবি, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা কার্যকর হতে শুরু করবে।
রাজ্যের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সেই কৃষি ব্যবস্থারই একটি বড় অংশ হল ক্ষেতমজুর সম্প্রদায় - যাঁদের জমি নেই, সারা বছর অন্যের জমিতে শ্রম দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার দিকটি মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কৃষি দফতর।
তবে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে কিছু শর্ত মানতেই হবে। আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। তাঁর নামে কোনও চাষযোগ্য জমি থাকা চলবে না। ভাগচাষি হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও তিনি এই সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি ‘কৃষক বন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কেউ এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ব্লক স্তরে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে। সহকারী কৃষি অধিকর্তার তত্ত্বাবধানে আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই ও অনুমোদনের কাজ চলবে। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন জেলাস্তরের উপ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন)। অর্থাৎ প্রশাসনিক স্তরে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে।
নথিপত্রের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম জারি হয়েছে। আধার কার্ড বাধ্যতামূলক। ভোটার কার্ড জমা দেওয়া ঐচ্ছিক। আবেদনকারীর নিজস্ব একটি সাধারণ সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। জনধন অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়। আধার-সংযুক্ত এবং কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হওয়া অ্যাকাউন্টেই ডিবিটি পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো হবে। যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে স্ব-ঘোষণাপত্র এবং আধার তথ্য ব্যবহারের সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে।
যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে এনপিসিআই মারফত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বৈধতা পরীক্ষা করা হবে। সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদন পাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যাবে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে।
কৃষি দফতরের বক্তব্য, ক্ষেতমজুরদের শ্রম ও অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।