কয়েক সেকেন্ড… তারপরই স্পষ্ট হল ভয়ঙ্কর দৃশ্য! রিসর্টের ফটক পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে কুখ্যাত দাঁতাল ‘ডাঁয়া গণেশ’!

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার রাত। বিয়ের সাজসজ্জায় (Wedding celebrations) ব্যস্ত গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া একটি অভিজাত রিসর্ট (Gorumara Resort)। রঙিন আলো, সানাইয়ের সুর, অমন্ত্রিতদের কোলাহল—হঠাৎই যেন সব থেমে গেল। অন্ধকার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে মূর্তি নদীর জল কাঁপিয়ে এগিয়ে এল এলাকার এক পরিচিত দাপুটে ছায়া।
কয়েক সেকেন্ড… তারপরই স্পষ্ট হল ভয়ঙ্কর দৃশ্য! রিসর্টের ফটক পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে কুখ্যাত দাঁতাল ‘ডাঁয়া গণেশ’ (Elephant, Dyana Ganesh)!
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যে মুহূর্তে রিসর্টের ভিতর তার বিশাল ছায়া দেখা যায়, কর্মীদের বুক কেঁপে ওঠে। ঘরময় আলো-সাজ–ফুল–ঝালর উড়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু বছরের অভিজ্ঞ বনকর্মীরাও জানেন—ডাঁয়া গণেশের সামনে চিৎকার করা মানেই বিপদকে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলা।
মঙ্গলবার রাতে রিসর্টে ঢুকেই সে কিছুক্ষণ চারপাশ শুঁকে দেখে। দেয়ালে মাথা ঠেকায়, মাটিতে শুকনো পাতা উড়িয়ে এগোয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কারও ক্ষতি করেনি। বন বিভাগের আধিকারিকেরা মনে করছেন—“সৌভাগ্যক্রমে কেউ সামনে না থাকায় আজ বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।”
ডাঁয়া গণেশ! দাঁতালের এমন নামকরণের পিছনেও রয়েছে কাহিনি
বন দফতর জানায়, স্থানীয়দের কাছে দাঁতালটি পরিচিত ‘ডাঁয়া গণেশ’ নামে, কারণ, তার ডান দিকের দাঁত অটুট, বাঁ দিকটি ভাঙা। সে কারণেই এমন নামকরণ। ভয়ঙ্কর দাপট ও একার চলাফেরা—এই দুই–ই তাকে আলাদা করে তোলে। গরুমারা, বৈকুণ্ঠপুর, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং—এক বন থেকে আরেক বনে সে এমনভাবে ঘোরে, যেন গোটা ডুয়ার্সই তার রাজ্য!
কয়েক মাস আগে তিস্তা পার হয়ে আপালচাঁদের জঙ্গলে তার দেখা মিলেছিল। বনকর্মীদের বহুবার রাত জাগিয়েছে এই দাঁতাল।
এক বনকর্মীর কথায়, “ডাঁয়া গণেশকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ নয়, এটা বিপদ। পটকা–গুলির শব্দেও সে থামে না। আমরা কুনকি নিয়ে গেলেও দূরত্ব রেখেই চলি।”
পরিবেশপ্রেমী অভিযান সাহা বলেন, “ডাঁয়া গণেশ এমনই—তার আচরণ পুরো আলাদা। ডুয়ার্সে একা একাই সে রাজপাট চালায়।”
গরুমারার এডিএফও রাজীব দে জানান, “এখন জঙ্গলে প্রচুর হাতি রয়েছে। বাইরে বেরিয়ে পড়া হাতিগুলিকে ফেরাতে টহল বাড়ানো হয়েছে। রিসর্টগুলোকে রাতে সাউন্ড সিস্টেম কমাতে বলা হয়েছে।”
তবে মঙ্গলবার গরুমারার রিসর্টে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির থাকা আমন্ত্রিতরা বলছেন, বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছি! আর