গত মরশুমে শীত কার্যত নিরাশ করেছিল বঙ্গবাসীকে। এবারে সেই আক্ষেপ থাকবে না বলেই আশাবাদী রাজ্যের মানুষ। এখন থেকেই খানিক শীতের অনুভূতি মিলতে শুরু করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 November 2025 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা (Rainy Season) বিদায় নিয়েছে। এখনও নিম্নচাপের কিঞ্চিৎ ভ্রূকুটি থাকলেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আর নেই। এরই মধ্যে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ - সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে নামছে পারদ (Temperature), বাতাসে কমছে আর্দ্রতা। অর্থাৎ শীত (Winter Season) যে দোরগোড়ায় তা বলাই যায়।
গত মরশুমে শীত কার্যত নিরাশ করেছিল বঙ্গবাসীকে (West Bengal)। এবারে সেই আক্ষেপ থাকবে না বলেই আশাবাদী রাজ্যের মানুষ। এখন থেকেই খানিক শীতের অনুভূতি মিলতে শুরু করেছে। ভোরের দিকে এবং রাতের বেলায় শিনশিনে হাওয়া দিচ্ছে। রাতে শোওয়ার সময় কম্বল বা লেপের দরকার পড়ছে না ঠিকই কিন্তু পাখা কমাতে হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার আরও পরিবর্তন হবে বলে আভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Office)।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য কম। বুধবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১.৩ ডিগ্রি কম। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও কমেছে - সর্বাধিক ৯১ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৪৮ শতাংশ।
আবহবিদদের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টায় শহরের দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ নামতে পারে ৫০ শতাংশের নীচে, ফলে সকাল ও রাতের হালকা ঠান্ডা আরও অনুভূত হবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট আগেই শুরু হয়েছে। দার্জিলিংয়ে রাতের তাপমাত্রা সপ্তাহের শেষে নেমে যেতে পারে ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তরাই ও ডুয়ার্সে মনোরম আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসলে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দিকে সরে গেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে এর বিশেষ প্রভাব নেই। শুধুমাত্র সুন্দরবন এলাকায় সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সব মিলিয়ে, শীতের সূচনা এবার আশাব্যঞ্জক। উত্তুরে হাওয়া বইছে, আকাশ পরিষ্কার, আর রাজ্য ধীরে ধীরে ঢুকছে কাঁথা-কম্বলের মরশুমে।