গত এক দশকে ডিসেম্বরে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার নজির রয়েছে।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 20 December 2025 10:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই বড়দিন। এই সময় সাধারণত কলকাতায় শীতের কামড় টের পাওয়া যায়। কনকনে ঠান্ডা, ভোরের কুয়াশা, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে শীতের রেশ থাকে আলাদা করে। কিন্তু এ বছর বড়দিনে সেই ছবি দেখা যাবে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। বরং শীতের পথে ‘ভিলেন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাশ্মীর।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাশ্মীরের উপর পরপর দু’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব পড়েছে। একটি ইতিমধ্যেই আছড়ে পড়েছে, অন্যটি ধেয়ে আসছে। এর জেরেই বাধা পাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া—যে হাওয়া সাধারণত উত্তর ভারত থেকে নেমে এসে বাংলাকে শীতল করে তোলে। উত্তুরে হাওয়ার এই দুর্বলতার ফলেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, কমছে শীতের তীব্রতা।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, “২৫ ডিসেম্বর কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ১৫ ডিগ্রির নীচে নামার বিশেষ সম্ভাবনা নেই।” তাঁর কথায়, ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এই সময় কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে ১৬ ডিগ্রির আশপাশেই। তবে বড়দিনের ঠিক পরেই বদলাতে পারে পরিস্থিতি।
আঞ্চলিক অধিকর্তার কথায়, “২৬ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তখন শীতের আমেজ বাড়বে। ঠিক কতটা নামবে, তা দু’-এক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।”
শুক্রবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা বেশি ছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে আকাশ কুয়াশায় ঢাকা, সূর্যের দেখা মেলেনি। এদিন সকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় গড়ে এক ডিগ্রি বেশি ছিল। যদিও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গা ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতন—সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১২.৪ ডিগ্রিতে। শুক্রবার সেখানেও রাতের তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রির আশপাশে। তবে সামগ্রিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের উপরে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
অন্য দিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের উপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। পাশাপাশি পাকিস্তান-ইরানের উপর আরও একটি ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই কাশ্মীরের দিকে এগোবে। এর প্রভাবে ২০ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পশ্চিম হিমালয়ের কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাঞ্জাবের সমতল এলাকাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এ বছর শীতের মরসুমে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। যে ক’টি ঝঞ্ঝা এসেছে, সেগুলিও ছিল দুর্বল প্রকৃতির। ফলে এখনও পর্যন্ত পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে তেমন ভারী তুষারপাত হয়নি। উত্তর ভারতের সমতল এলাকাতেও ঝঞ্ঝাজনিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, যে দ্বিতীয় ঝঞ্ঝাটি কাশ্মীরের দিকে এগোচ্ছে, সেটি তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী হতে পারে। তাই কাশ্মীরে ভারী তুষারপাত এবং পাঞ্জাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়ার নিয়ম বলছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হিমালয়ে সক্রিয় থাকলে উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। তখনই দক্ষিণবঙ্গে বাড়ে তাপমাত্রা। ঝঞ্ঝা সরে গেলে উত্তুরে হাওয়া ফের সক্রিয় হয়। পাহাড়ে তুষারপাতের পর সেই ঠান্ডা হাওয়াই নামিয়ে আনে শীতের প্রকোপ। এ বছর সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২৬ ডিসেম্বরের পর। ফলে বড়দিন থাকবে শীতকালের তুলনায় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে ডিসেম্বরে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার নজির রয়েছে। তবে এ বছর এখনও পর্যন্ত ডিসেম্বরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৪.৫ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ, শীত আসবে, তবে বড়দিন পেরিয়েই।