কলকাতা-সহ বেশ কিছু জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টি হলেও আদ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়বে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল ৯টার রোদ্দুরও গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে! বেলা বাড়লে তো কথায় নেই! ভ্য়াপসা গরমে নাকাল বঙ্গবাসী। কলকাতা-সহ (Kolkata) দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও চড়ছে পারদ (Weather Update)।
শনিবার সকাল ৯টায় কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির আশেপাশে। ৩৫ ডিগ্রির ঘরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। পারদ আরও চড়তে পারে, বলছেন হাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বাংলার দুয়ারে এসেও মুখ ঘুরিয়েছে বর্ষা। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষের আগে বর্ষার আগমনের বিশেষ সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরাও।
এবারে সময়ের আগেই বাংলায় বর্ষার আগমনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মে মাসের শেষে উত্তরে বর্ষা প্রবেশ করে। কিন্তু তারপরই ঘূর্ণাবর্তের দাপটে পরিস্থিতি বদলে যায়। আলিপুর জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গবাসীদের জন্য আপাতত কোনও স্বস্তির খবর নেই। বর্ষা আসতে এখনও বেশ কিছুটা সময়ের অপেক্ষা। তার আগে বাড়বে অস্বস্তিকর গরম। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম।
কলকাতা-সহ বেশ কিছু জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টি হলেও আদ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়বে। কারণ শুক্রবার থেকেই চড়ছে শুরু করেছে পারদ। রবিবার তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। অর্থাৎ সপ্তাহ শেষেও বঙ্গবাসীর সঙ্গী সেই ভ্যাপসা গরম।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ১২ জুনের পর দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal) বর্ষার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে তার আগে কোনও জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তুলনামূলকভাবে উপকূলের এলাকাগুলিতে হালকা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রা বাড়বে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) জেলাগুলিতেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি- এই পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আলিপুর জানাচ্ছে, জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর- এই তিন জেলাতেও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
বাংলার দুয়ারে এসেও বর্ষার ফিরে যাওয়ার কারণ কী?
আলিপুরের বক্তব্য, কর্নাটক (Karnataka), তেলেঙ্গানা (Telengana) সংলগ্ন অঞ্চলে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, পার্বত্য উত্তর-পশ্চিম ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকছে। এটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ কিলোমিটার উপরে দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় থেকে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অক্ষরেখা ওড়িশা (Odisha), ঝাড়খণ্ড, বিহার ও বাংলার (West Bengal) উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। এই সিস্টেমগুলোই বাংলায় বর্ষার প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে অসম, মেঘালয়ে। কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, ওড়িশার কিছু অংশেও আঞ্চলিকভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।