এবার থেকে নাবালিকার বিয়েতে (Minor's Wedding) উপস্থিত থাকলে বিরিয়ানি, মাটনের সঙ্গে আমন্ত্রিতদের জন্য এক্সট্রা হিসেবে জুটতে পারে জেল, জরিমানাও।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 08:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'জানতাম না ওটা নাবালিকার বিয়ে ছিল! স্রেফ নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলাম' বললে আর রেহাই মিলবে না। এবার থেকে নাবালিকার বিয়েতে (Minor's Wedding) উপস্থিত থাকলে বিরিয়ানি, মাটনের সঙ্গে আমন্ত্রিতদের জন্য এক্সট্রা হিসেবে জুটতে পারে জেল, জরিমানাও।
শুধু আমন্ত্রিত নয়, শাস্তির কোপ থেকে রেহাই পাবেন না পুরোহিতও (Priests)। জেল জরিমানা হবে মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়িরও।
বাল্য বিবাহ রোধে আগেই কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। জেলায় জেলায় চলছে সচেতনতার প্রচারও। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের মতো জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাইভেট গোয়েন্দা লাগিয়েও এ ব্যাপারে সুফল মিলেছে। তবে তারপরও বহু জায়গাতেই বাল্য বিবাহের ঘটনা ঘটছে বলে খবর।
প্রশাসন সূত্রের খবর, সব ক্ষেত্রে যে লুকিয়ে চুরিয়ে নাবালিকা বিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমনটাও নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে জাঁকজমক করে নাবালিকা বিয়ে দেওয়ার খবরও জানা গেছে। এরপরই এ ব্যাপারে কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আইনে সেই বিধানও রয়েছে।
২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ রোধ আইন অনুযায়ী নাবালিকা বিয়েতে পরোক্ষে মদত দেওয়ার অভিযোগে জেল জরিমানা হতে পারে আমন্ত্রিতদেরও। সম্প্রতি নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের তরফে এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জনগনকে সচেতন করতে জেলায় জেলায় আইনের এই কঠোর ধারার বিশেষ হোর্ডিং, পোস্টারও লাগানো হচ্ছে। তাতে বাল্যবিবাহের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকগুলিরও উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের মা, বাবার পাশাপাশি আত্মীয় সজ্জন, পাড়া প্রতিবেশীরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। চাইলে তাঁরাই এই বিয়ে আটকে দিতে পারেন। কিন্তু তা না করে অনেকেই কব্জি ঢুবিয়ে খেতে ব্যস্ত থাকেন। তাই শুধু সচেতনতার প্রচার দিয়ে হবে না, এ ব্যাপারে কেউ সাহায্য করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। শুরুতে পোস্টার, হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে, তাতেও কাজ না হলে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছে ওয়াকিবহাল মহলও। তাদের মতে, সামাজিক এই ব্যাধীকে সমূলে উৎখাত করতে হলে শাস্তির বিধানও দরকার। ভয়ে যদি কিছুটা কাজ হয়।