এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার কিছুটা ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, অন্যদিকে মেঘলা আকাশের কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। ফলে শীতের অনুভূতি প্রায় উধাও হয়ে গিয়ে বাতাসে হালকা উষ্ণতার ছোঁয়া ফিরে এসেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 09:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলার আবহাওয়ায় (West Bengal Weather Update) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী (Weather Update), তাপমাত্রার ওঠানামার পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা (Rain Forecast In West Bengal) তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রবিবার থেকে আবহাওয়ার চরিত্র বদলাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই অনেক জায়গায় কুয়াশার দেখা মিলেছে। উপকূল এবং উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে সকালবেলায় কুয়াশার প্রভাব কিছুটা বেশি ছিল। পরে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও বিকেলের দিকে আবার আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে (Kolkata Weather Update) তাপমাত্রার কিছুটা ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, অন্যদিকে মেঘলা আকাশের কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। ফলে শীতের অনুভূতি প্রায় উধাও হয়ে গিয়ে বাতাসে হালকা উষ্ণতার ছোঁয়া ফিরে এসেছে।
দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার ও শনিবার পর্যন্ত মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রবিবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস। ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং হুগলি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
সোমবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। মঙ্গলবার এবং বুধবারও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কলকাতার আবহাওয়াতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকালে শহরের কিছু এলাকায় কুয়াশা দেখা যায়। দিনের বেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম থাকবে।
শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫০ থেকে ৯৪ শতাংশের মধ্যে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৩ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে অনুমান।
উত্তরবঙ্গেও এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ে শনিবার বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর-পূর্ব অসমে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর সংলগ্ন এলাকায় নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করায় গোটা পূর্বভারতের আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। আগামী কয়েক দিন সেই প্রভাব বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।