দ্য ওয়াল ব্যুরো : সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতাই ভারতের ঐতিহ্য। কিন্তু এখন ধর্মের নামে ভারতে যা ঘটছে তাতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এমনই মত প্রকাশ করেছেন আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। গত বুধবার ‘২০১৯ ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস রিপোর্ট’ নামে এক প্রতিবেদন পেশ করেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও। তারপরে কূটনীতিক স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা ওই রিপোর্টে বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর আগেও আমেরিকা থেকে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত সরকার প্রতিবারই বলেছে, ওই রিপোর্ট ভিত্তিহীন। ভারতের সংবিধানে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা সুরক্ষিত আছে। গত বুধবার ব্রাউনব্যাক বিদেশী সাংবাদিকদের বলেন, “ভারতে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঐতিহাসিকভাবে ভারত পরমতসহিষ্ণু। অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” পরে তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি ভারতে নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি। আমি আশা করি, ভারতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শীর্ষস্তরে আলাপ-আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। যে সমস্যাগুলির কথা আমরা বলছি, সেগুলির কথাও আলোচনায় আসা দরকার।”
ব্রাউনব্যাকের মতে, আলোচনা না হলে হিংসা বাড়তেই থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আশা করি ভারতে কোভিড ১৯ সংক্রমণের জন্য সংখ্যালঘুদের দোষারোপ করা হবে না। সংখ্যালঘুরা এই সংকটের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাবেন।”
এর আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “কোভিড ১৯ কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভাষা বিচার করে না। সুতরাং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতেই তাকে মোকাবিলা করতে হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ’১৭ সালের মধ্যে ভারতে ৭৪৮৪ টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাতে ১১০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন।