গত ২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার প্রেক্ষিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 2 March 2026 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নিয়ে। এই বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ থাকার জন্য নির্বাচন কমিশন যখন তাদের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের (ERO/AERO) ওপর দোষ চাপাচ্ছে, তখন তার তীব্র বিরোধিতা করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (WBCS Officers Association)। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, কমিশনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য।
কমিশনের বিরুদ্ধে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তোপ
গত ২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার প্রেক্ষিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, শুনানির শেষেও কেন বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ রয়ে গেল, তার জন্য ERO / AERO-দের দায়ী করা অসংগত। অ্যাসোসিয়েশনের সাফ কথা, মাঠপর্যায়ের এই আধিকারিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে শুনানি গ্রহণ করেছেন, নথি আপলোড করেছেন এবং আইন মেনে আদেশ জারি করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের ঘাড়ে দায় চাপাল অ্যাসোসিয়েশন
অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জটের আসল কারণ প্রশাসনের গাফিলতি নয়, বরং কমিশনের নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা। তাদের দাবি, কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো ও রোল অবজার্ভাররা পূর্বে নিষ্পত্তি করা বহু মামলাই কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই নথিপত্র ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর তার ফলেই বিপুল সংখ্যক নাম সিস্টেমের ত্রুটির কারণে ‘Under Adjudication’ হিসেবে থেকে গিয়েছে।

মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের এভাবে প্রকাশ্যে দোষারোপ করায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, এটি কেবল আধিকারিকদের অসম্মানজনক পরিস্থিতিই তৈরি করছে না, বরং নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে অফিসারদের এই সরব হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বস্তুত, রিচা ঘোষের নামের পাশে 'বিচারাধীন' লেখা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছিল, তখন সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। একটি টুইট-বার্তায় জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রশাসনিক স্তরে মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই দায় ইআরও / এইআরওর ঘাড়ে ঠেলে তাদের জবাবদিহি করতে বলা হয়। যা নিয়ে সোমবার বিরক্ত প্রকাশ করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’।